মতিঝিলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক সাবেক যুবদলের নেতা নুরু চৌধুরী

মতিঝিলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক সাবেক যুবদলের নেতা নুরু চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে ফুটপাতের সাধারন ব্যবসায়ীরা নুরুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে নুরু চৌধুরীর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। মতিঝিলের সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিকট  একটি আতঙ্কে পরিণত হয়েছে নুরুল ইসলাম  ওরফে নুরু চৌধুরী।মতিঝিল ৯ নং ওয়ার্ডের ফুটপাতগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার প্রসার নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। জীবিকার প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিকরা মতিঝিলের ফুটপাতগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।  তাদের ব্যবসার লাভের সিংহভাগই নিয়ে যায় কিছু চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র।  সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। সেরকমই মতিঝিলের চাঁদাবাজের নিয়ন্ত্রণ করছেন সাবেক  ৩২নং (বর্তমান ৯ নং ওয়ার্ড)ওয়ার্ড যুবদল সহ-সভাপতি বর্তমান যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম চৌধুরী।  বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায় নুরুল ইসলাম চৌধুরী সাবেক ৩২ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি তার কমিটির অনুমোদন হয়েছিল ২৪/১১/২০১২ইং সালে। তিনি ফুটপাতের প্রতিটি দোকান থেকে ১০/১২জন লাইনম্যান এর মাধ্যমে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করেন। বিল্লাল সোহেল ইব্রাহিম  মনা বাবুলসহ একাধিক লাইনম্যান রয়েছে তার।প্রতিটি ভ্যানগাড়ি থেকে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ওয়াসার পানি বোতলজাত করে ফিল্টার পানি বলে বিক্রি করা, ময়লার নামে প্রতিটি ফুটপাতের দোকান থেকে দশ টাকা করে চাঁদা আদায়, সরকারি-বেসরকারি জায়গা দখল করে দোকান বসিয়ে বিক্রি ও ভাড়া আদায় করা, নিরাপত্তা বাণিজ্য মাদক কারবারীদের সহায়তা প্রদান সহ নানা ধরনের অনৈতিক উপায়ে  সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন যদি কোনো ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু চৌধুরীর বাহিনীকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তখনই তাদের উপর নেমে আসে অত্যাচার।  তারা নিরুপায় হয়ে নূরু বাহিনীকে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। প্রশাসন এবং স্থানীয় কাউন্সিলর এর ছত্রছায়ায় নুরু বাহিনী সাধারণ ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।  ইতিপূর্বে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীরা দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছিলেন কিন্তু কোনো কাজ হয়নি বরঞ্চ চাঁদার পরিমাণ আগের চেয়ে আরও বেড়ে গিয়েছে।  সাধারণ ব্যবসায়ীরা আরো বলেন নুরু বাহিনী মতিঝিল ৯ নং ওয়ার্ড এলাকার রাস্তা দখল করে চায়ের দোকান, ফলের দোকান, হোটেল সহ নানাবিধ  ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দৈনিক প্রায় ষাট থেকে সত্তর হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন।  মাসে প্রায় বিশ একুশ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে থাকেন তারা। লাইনম্যানরা বলেন  প্রতিদিনের কালেকশন প্রতিদিন নুরু চৌধুরীর কাছে জমা দিলে তিনি তাদেরকে একটা মজুরি দেন। বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায় যে বিদ্যুৎ এবং ওয়াসার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নুরু বাহিনীর চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।  তাদের সহযোগিতায় নুরু বাহিনী চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছেন। এছাড়াও নিরাপত্তা চাঁদা নামের নতুন ধরনের চাঁদার আবির্ভাব ঘটিয়েছেন নুরু বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন নুরুল ইসলাম চৌধুরী  একজন অনুপ্রবেশকারী তিনি যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে  দলের বদনাম করছে দলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায়। নুরু চৌধুরীর চাদাবাজি নিয়ে ইতিপূর্বে ইনডিপেনডেনট টেলিভিশন অপরাধ বিচিত্রা সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। মতিঝিলের ৯ নং ওয়ার্ডের বজ্র ব্যবস্থাপনার টেন্ডার পেয়েছিল এসডি মিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান,  সেই প্রতিষ্ঠান থেকে সাব টেন্ডারের মাধ্যমে কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় বজ্র ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নুরু চৌধুরী। যেখানে সিটি কর্পোরেশনে স্পষ্ট বিধান রয়েছে যে সকল প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পাবে সেই সকল প্রতিষ্ঠানই বজ্র ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা  করবে, অথচ সে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের বজ্র ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নুরু চৌধুরী। নুরু চৌধুরীর ক্ষমতার উৎস কোথায় তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে সে একের পর এক অবৈধভাবে চাঁদাবাজি, অনিয়ম করেই যাচ্ছে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।  সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে অনিয়ম অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে তারই আলোকে এই চাঁদাবাজ নুরুল ইসলাম নুরু চৌধুরীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিবেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন অতি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে মতিঝিলে চাঁদাবাজি বন্ধ করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ব্যাপারে নুরুল ইসলাম নুরু চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আপনারা খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন আমার কোন লোক চাঁদাবাজি করে কিনা, কেউ বলতে পারবে না আমার লোকজন চাঁদাবাজি করে।  গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি এ ব্যাপারে আর কোনো কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।