মোল্লাহাটে সাজানো অগ্নিসংযোগ ও গরু লুটের নাটক ফাঁস : রহস্য উন্মোচন ও গরু উদ্ধার করল পুলিশ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / অপরাধ / বিস্তারিত

মোল্লাহাটে সাজানো অগ্নিসংযোগ ও গরু লুটের নাটক ফাঁস : রহস্য উন্মোচন ও গরু উদ্ধার করল পুলিশ

19 July 2026, 10:52:09

মোল্লাহাটে সাজানো অগ্নিসংযোগ ও গরু লুটের নাটক ফাঁস : রহস্য উন্মোচন ও গরু উদ্ধার করল পুলিশ

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেদের গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ এবং গরু লুটের নাটক সাজানোর এক চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের সরসপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই পরিকল্পিত ঘটনার মূল ষড়যন্ত্র ও অসঙ্গতি তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এনেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরসপুর গ্রামের হাকিম শেখের স্ত্রী তানজিলা বেগম ও তার পরিবার তাদের গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ এবং সেখান থেকে দুইটি মূল্যবান গরু ও একটি বাছুর লুট করে নিয়ে যাওয়ার মৌখিক অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে মোল্লাহাট থানা পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রাথমিক তদন্তের শুরুতেই অভিযোগের বর্ণনায় একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রথমত, গোয়ালঘরের অগ্নিকাণ্ডের ধরণ এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির আলামত ইঙ্গিত করে যে, আগুন বাইরে থেকে নয় বরং ভেতর থেকেই পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রকার ধস্তাধস্তি বা আওয়াজ ছাড়া একযোগে একাধিক গরু লুটের দাবিটি অবাস্তব মনে হয়।

পরবর্তীতে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে অভিযোগকারীদের বয়ানে থাকা বড় বড় বৈপরীত্য ও মিথ্যা তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৭ জুন রাত ১০ টায় ভুক্তভোগী মোঃ তরিকুল ইসলামের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার অপরাধে ইসরাইল শেখ, আবু সোমা শেখ, কুদ্দুস শেখ, হাকিম শেখসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। (আসামি গন পালাতক রয়েছে) এ নিয়ে নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে বড় মামলায় ফাঁসিয়ে এলাকাছাড়া করতে এবং আর্থিকভাবে কোণঠাসা করতেই বাড়ির নারী সদস্যদের দিয়ে এই আত্মঘাতী নাটক সাজানো হয়েছিল। লুট হওয়া দাবি করা গরুগুলোও আগে থেকেই অন্য এক নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে লুটের অভিযোগতোলা গরুগুলো সরসপুর গ্রামের বিলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, নিরীহ কোনো মানুষ যেন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে এই রহস্যের জট খোলা হয়েছে। এই সাজানো ও বিভ্রান্তিকর ঘটনার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই রহস্য উন্মোচনের পর সরসপুর গ্রামসহ গোটা কোদালিয়া ইউনিয়নে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: