নতুন বাজার এলাকায় ‘ফ্যামিলি বাজার’-এর নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

নতুন বাজার এলাকায় ‘ফ্যামিলি বাজার’-এর নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

16 August 2026, 8:09:25

নতুন বাজার এলাকায় 'ফ্যামিলি বাজার'-এর নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দেওয়ান মাসুকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৫ আগস্ট ২০২৬ :

শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজার এলাকার ‘ফ্যামিলি বাজার’ প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম।

একই সঙ্গে তিনি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল পোল্ট্রি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও ফল ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ হারুন।

শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারস্থ “ফ্যামিলি বাজার”-এর স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম বলেন, “আমি নিম্ন-স্বাক্ষরকারী মাসুমুর রশিদ (মাসুম), প্রোপাইটার ফ্যামিলি বাজার, সাং নতুন বাজার, শ্রীমঙ্গল, জেলা: মৌলভীবাজার। বর্ণিত উক্ত প্রতিষ্ঠানে ব্রয়লার, কক, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হয়।

গত ১৩ আগস্ট বিকালে মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক ষ্টাফ কর্তৃক মৃত মুরগি বিক্রয় করার অভিযোগে আমার উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উক্তরূপ জরিমানার টাকা পরিশোধ করি। এ ঘটনায় অভিযোগকারী কথিত সাংবাদিক রোমেনা আক্তার শিপাসহ কতিপয় ব্যক্তি আমার বক্তব্য না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একতরফা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্যেশ্যপূর্ণ তথ্য প্রচার করে।

সাংবাদিক বন্ধুরা। আমি শ্রীমঙ্গল শহরের একজন ব্যবসায়ী। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত বিশ্বস্ততা ও সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। এ নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে আমার কিছু ব্যবসায়ীক প্রতিদ্বন্দ্বী দীর্ঘদিন ধরে আমার ব্যবসার সুনাম ও আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে নানাবিধ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৩ আগষ্টের ঘটনা সেই অপতৎপরতার একটি অংশমাত্র।

আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গত ২১ জুন ২০২৬ইং তারিখে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কোন বিষয়বস্তু উল্লেখ না করে একটি নোটীশ দিয়ে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হজির হতে নির্দেশনা দেন। আমরা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যথারীতি একজন প্রতিনিধি প্রেরণ করলে অফিস থেকে রোমানা আক্তার শিপা নামে এক নারীর একটি ভিডিও প্রদর্শণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়- ওই নারী (সাংবাদিক পরিচয়ধারী রোমানা আক্তার শিপা) প্রকাশ্য দিনের বেলায় আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসে ষ্টাফদের কাছে মরা মুরগী আছে কি-না জানতে চায়, এবং ১২০ টাকায় ৩টা মরা মুরগী ক্রয় করার প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। এসময় আমার প্রতিনিধি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের জানান যে, বিক্রয় প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত গরম বা বিরূপ আবহাওয়ায় ২-১টা মুরগী মারা যায়। আমাদের ষ্টাফরা সেইসব মৃত মুরগী যথাযথভাবে আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করে। প্রকাশ থাকে যে, অনেক ক্রেতা বিশেষ করে যারা বাসায় কুকুর পালন করে তারা দোকানের ষ্টাফদের কাছে গৃহপালিত কুকুরের খাবারের জন্য এইসব মৃত মুরগি ক্রয় করে থাকেন। এছাড়া চিড়িয়াখানার পশুদের খাবার হিসেবে মৃত মুরগীর চাহিদা রয়েছে। অনেক সময় তারা আমাদের দোকানের ষ্টাফদের কাছ থেকে খুব স্বল্প মূল্যে সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এই ক্রয় বিক্রয় আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাথে সম্পর্কিত নয়। অর্থাৎ এই মৃত মুরগী থেকে পাওয়া টাকা ষ্টাফরা নেয়, আমরা নেই না।

এই ব্যাখ্যা শুনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এর কর্মকর্তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে পূনরায় ১৩ আগষ্ট হাজির হতে নির্দেশ দেন। যথারীতি ১৩ আগষ্ট আমি মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হজির হলে তারা রোমানা আক্তার শিপার ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেন। এই রায়ের পর্যবেক্ষণে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অবহলোয় ষ্টাফদের কারণে ঘটে বলে জানান। স্টাফদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে কোন অসৎ ব্যক্তিরা এসব মৃত মুরগী হোটেল বা রেস্টুরেন্টে বিক্রি হওয়ার আশংকা থাকে। এজন্য প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা পরিচালনায় আরো সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোমেনা আক্তার শিপার তার ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি আমার প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগী বিক্রি হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালায়। তার এই দাবীর সূত্র ধরে আরো অনেকে একইভাবে আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আমার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিসাধন করে।

সাংবাদিক ভাইয়েরা। আপনাদের অবগতির জন্য আরো জানাচ্ছি যে, গত প্রায় ৬ মাস পূর্বে এক ব্যক্তি সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে একটি প্লাষ্টিকের বস্তায় প্রায় ২০ কেজি কাটা গরুর মাংস নিয়ে এসে বিক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। আমরা নিজেরা গরু ক্রয় করে হালাল উপায়ে জবেহ করে প্যাকেটজাত মাংস বিক্রয় করি। এর ছাড়া বাহিরের মাংস ক্রয় বা বিক্রয় করি না বলে জানিয়ে দেই। এই আলোচনা চলাকালে আকষ্মিকভাবে শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট দোকানে হাজির হন। এসময় তিনি ওই মাংসের বস্তা দুর্গন্ধযুক্ত ও খাবার অনপোযোগী মাংস হিসেবে সনাক্ত করেন। এসময় মুহূর্তের মধ্যে মাংস বিক্রি করতে আসা লোকটা কৌশলে পালিয়ে যায়। ফলে উপস্থিত আমার দোকানে এই মাংস রাখার দায়ে ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও মাংস জব্দ করে নিয়ে যান। এরপর অনেক সিসি ফুটেজ দেখে পুলিশ অনেক খোঁজাখুজি করলেও ওই লোকটাকে আর পাওয়া যায়নি। আমার ধারনা, আমার ব্যবসায়ীক কোন প্রতিদ্বন্দ্বী বা কোন বিরোধী পক্ষ উদ্যেশ্যমূলক ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাসানোর জন্য এই কাজ করে থাকতে পারে।

১৩ আগষ্টের ঘটনা- একইভাবে আমার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন করতে কারো প্ররোচনায় সাংবাদিক পরিচয়ধারী রোমানা আক্তার শিপা এই কাজ করে থাকতে পারে। আমরা মৃত মুরগীর অনৈতিক ব্যবসা করলে তা গোপনেই করার কথা। কোন ক্রেতা প্রকাশ্যে এসে ‘মরা মুরগী আছে কি-না’ জানতে চাইতো না। অবৈধ কোন পন্য প্রকাশ্যে বেচাকেনা হয় না এটাই স্বাভাবিক। রোমানা আক্তার আমার দোকানে এর আগে মুরগী ক্রয় করতে এসে দাম পরিশোধে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে অন্যায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। আমরা দাম কম নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সে, সাংবাদিক হিসেবে দেখে নেয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে যায়।

সাংবাদিক বন্ধুরা। সার্বিকভাবে আমি মনে করি রোমানা আক্তার শিপা উদ্যেশ্যমুলকভাবে আমার এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে অব্যহতভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে সঠিক তথ্য না জেনে কোন ব্যক্তি বা ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া অপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকতে আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: