চা শ্রমিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মাখন লাল কর্মকার ছিলেন প্রাতঃস্মরণীয়: সৈয়দ আমিরুজ্জামান
চা শ্রমিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মাখন লাল কর্মকার ছিলেন প্রাতঃস্মরণীয়: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

দেওয়ান মাসুকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ :
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং বি-৭৭) সভাপতি, শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং দেশের চা শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা শ্রমিক নেতা মাখন লাল কর্মকার স্মরণে শ্রীমঙ্গলে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার শুরুতে প্রয়াত এই নেতার সম্মানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১২টায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরস্থ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সদর দপ্তর লেবার হাউসের সভা কক্ষে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয়, বালিশিরা সহ ৭ ভ্যালির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “দীর্ঘ জীবনে মাখন লাল কর্মকার চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমানের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চা শ্রমিক অঙ্গন, শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
তিনি বলেন, মাখন লাল কর্মকার ছিলেন চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পরিচিত মুখ। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে থেকে তিনি দীর্ঘদিন চা শ্রমিকদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করেছেন। শ্রমিকদের সংগঠিত করা, তাদের দাবি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তুলে ধরা এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
শ্রমিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
চা অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকার শ্রমিকদের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত ও আস্থাভাজন নেতা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও শ্রমিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে চা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।”
সভায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, “বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমরা আজ এই শোকসভা পালন করছি। মাখন লাল কর্মকার দীর্ঘদিন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনারা জানেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংগঠনের সংগ্রামী পথচলায় মাখন লাল কর্মকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ শ্রমিক নেতা। “তাঁর মৃত্যুতে আভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আমরা প্রার্থনা করি, পরমেশ্বর যেন তাঁকে শান্তিতে রাখেন এবং তাঁর আত্মার শান্তি দান করেন। তাঁর কর্ম ও স্মৃতি চিরঞ্জীব হোক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চা শ্রমিকদের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন। তাঁর অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।”
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ এ কন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, বালিশিরা ভ্যালি সম্পাদক কর্ণ তাঁতী, লংলা ভ্যালির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন প্রতিনিধি সুমন তাঁতী, চা শ্রমিক নেত্রী খাইরুন আক্তার, মাকড়ীছড়া চা বাগানের কাশিনারায়ন গড়, সাতগাঁও চা বাগানের কাজল কালেন্দি, মধুপুর চা বাগানের গোপাল গড়, কামাইছড়া চা বাগানের বিমল ভর, দারাগাঁও চা বাগানের প্রেমলাল আহির, ফুলছড়া চা বাগানের জগবন্ধু রায়, রাজঘাট চা বাগানের পলাশ বোনার্জী, নূর হোসেন, উজ্জ্বল দাস, সরফরাজ সাজু, সুভাষ রবিদাস,সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, মাখন লাল কর্মকার বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বি-৭৭-এর সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সংগ্রামী নেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুতে চা শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
উল্লেখ্য যে, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শ্রীমঙ্গল উপজেলার খেজুরিছড়া চা বাগানে নিজ বাসভবনে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: