দখলের কারণে নাব্যতা সংকটে পেকুয়ার কাটাফাঁড়ি খাল
দখলের কারণে নাব্যতা সংকটে পেকুয়ার কাটাফাঁড়ি খাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বঙ্গোপসাগর ও মাতামুহুরী নদীর সংযোগ কাটাফাঁড়ি খাল, স্বকয়ীতা হারিয়ে এখন ভুমিদস্যুদের কবলে।গড়ে উঠছে নিত্যনতুন স্থাপনা কিন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আছে ঘুমে অচেতন।
উজানটিয়া ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাঝদিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী ও বঙ্গোপসাগরের মিলন ঘটান এ খালটি। বিগত ১০/১২ বছর আগেও এই নদীর কোলাহল ছিল পরিপূর্ণ যৌবনের উচ্ছলতায়। জেলেদের ছোট ডিঙ্গি-নৌকায় তৈল চালিত ফানুস বাতির আলোয় রাতে নৌ-চলাচলে দিক-নির্দেশীকারও সহায়ক ছিল।
উপকুলীয় এলাকার অধিকাংশ লোক মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন মরাগাঙ্গে পরিণত হওয়ায় জেলেরা বেকার হয়ে দূর্বিসহ অবস্থায় পতিত বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায়। নাব্যতা সংকটে হুমকির মুখে পড়েছে নৌ-চলাচলও। দু’পাশে জেগে উঠা চর দখলের প্রতিযোগিতায় মেতেছে ভয়ংকর ভূমি-দস্যুরা। বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের স্রোতে চরাঞ্চলের বাড়ি-ঘর ডুবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে পানি।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, অন্তত দুশত ফুটের চেয়ে বেশি প্রস্থ ও ৫০ ফুটেরও অধিক গভীরতম খালটি এখন ভরাট হয়ে নালায় পরিণত। ইঞ্জিনচালিত বোট-নৌকা চলাতো দুরের কথা ছোট নৌকা পর্যন্তও এখন চলাচল করতে পারে না। দু-তীরে জেগে উঠা চরে বসতবাড়ি ও দোকানঘর বসাচ্ছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, এ খাল থেকে আমরা প্রতিনিয়ন ডিঙ্গি নৌকায় করে জাল বসিয়ে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। রাতে আমাদের তেল চালিত বোম্বার আগুনের আলোতে দিকনির্দেশিকা পেতো ইঞ্জিন চালিত বোট ও নৌকার মাঝিরা। এখন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বেকার জীবন পার করছি। অন্য পেশায় অব্যস্ত না হওয়ায় কেউ কাজে নেয় না আমাদের। তারা আলো বলেন, পাকিস্তান আমলে খনন করা এ খালটি দীর্ঘকাল ধরে ড্রেজিং না করায় এবং জেগে উঠা চর প্রতিনিয়ত দখল করার কারণে নাব্যতা হারিয়েছে এ খালটি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বোট মালিকেরা জানান, নিজস্ব পণ্যবাহী বোট-নৌকা পূ্র্ণ-জোয়ারের সময় কোনরকমে চললেও সড়ক পথে পণ্য বহণ করতে হয়। এতে বহণ খরচ যেমন বাড়ছে তেমনি বেড়েছে দূর্ঘটনার ঝুঁকিও। আগে এ পথ দিয়ে অনেক মালবাহী বোট প্রতিনিয়ত পেকুয়া বাজার, আরবশাহ বাজার ও সওদাগর হাটে যাতায়ত করলেও বর্তমানে খালটি নাব্যতা সংকটে নৌ-চলাচল বন্ধ। অথচ প্রতিবছর নদী রক্ষায় বিশ্ব-নদী দিবসও পালন করা হয়। তাদের দাবী বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে খাল খননের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তালিকা প্রণয়ন করছেন সে তালিকায় এ খালটির বিষয়ে পানি-উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসন দ্রুত খনন তালিকায় অন্তর্ভূক্তির প্রয়োজন পদক্ষেপ নিয়ে দু’পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হউক।
স্থানীয় সমাজকর্মী সালাহ উদ্দিন জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লীজ বাণিজ্য ও ভূমিদস্যূদের আগ্রাসী কর্মকান্ডের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ খালটি মরাগাঙ্গে পরিণত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষের জন্য একমাত্র পানির উৎস এ খালটি। পর্যান্ত পরিমাণ পানি ধারণ করার সক্ষমতা নাই বিধায় পেকুয়া উপজেলায় লবণ চাষের জমি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে জীবিকা সংকটের ঝুঁকিতে পেকুয়াবাসী।
পানি-উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার-বান্দরবান জেলার প্রধান প্রকৌশলী অপু দেব জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধ সংস্কার ও ড্রেজিং না হওয়ার দরুণ দখলকারীরা আগ্রাসী ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতি-শীগ্রই দখলদার চিহৃিত করে এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে এবং ড্রেজিং প্রকল্পের চলমান সমীক্ষায় এ খালটি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে ড্রেজিং কাজ শুরু হলেই এটির কাজ শুরু করা হবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: