জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি এনসিপি’র
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি এনসিপি’র

ডেক্স রিপোর্টঃ ১৭ আগস্ট রবিবার ২০২৫।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দলের শীর্ষ নেতারা এ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দাবি মূলত নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার প্রয়াস হিসেবে ধরা যেতে পারে।
সভায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা নিরসনের একমাত্র উপায় হলো গণপরিষদ নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তার আগে অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে। জুলাই সনদের যে প্রস্তাবনা এসেছে, তা বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। ঐকমত্য কমিশনের সময় বাড়ানো কোনো সমাধান নয়।” নাসীরুদ্দীনের এই মন্তব্য মূলত বর্তমান সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক বার্তা বহন করছে।
এ বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আগের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান সংবিধান বাস্তবিক অর্থে জনগণের স্বার্থে কাজ করছে না। সংবিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া আমরা কোনো স্থিতিশীলতা দেখতে পাই না।” তাঁর যুক্তি, আসন বা ক্ষমতার বিনিময়ে রাজনৈতিক দল কেনা সম্ভব নয়; গণপরিষদ নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে না।
গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন। নির্বাচন কমিশনও ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংবিধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর অবস্থান নির্বাচনের ফলাফল ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি জানিয়েছে তারা নির্বাচনকে স্বাগত জানাবে, তবে জামায়াত জানিয়েছে, সংখ্যানুপাতিক বা পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি ছাড়া তারা ভোটে অংশ নেবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একই দাবিতে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি বলছে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের জন্য দায়িত্ব কেবল ভোট আয়োজন নয়, বরং অংশগ্রহণকারীদের প্রতিশ্রুতিকে নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এনসিপি বলছে, গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ছাড়া তারা ভোটে যাবে না। ১২ আগস্ট রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “নতুন সংবিধান বা সংস্কার ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই অবস্থান শুধুমাত্র নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নয়; বরং এটি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, সংবিধান বাস্তবায়ন এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করার আহ্বানও বটে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই দাবিগুলো কতটা পূরণ হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: