ভুল স্প্রে নাকি পাতার রোগ? ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ বিঘা ধানক্ষেত নষ্টের নেপথ্যে কী? | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / কৃষি / বিস্তারিত

ভুল স্প্রে নাকি পাতার রোগ? ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ বিঘা ধানক্ষেত নষ্টের নেপথ্যে কী?

27 September 2026, 2:04:25

ভুল স্প্রে নাকি পাতার রোগ? ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ বিঘা ধানক্ষেত নষ্টের নেপথ্যে কী?

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
কীটনাশক প্রয়োগের পর ধানক্ষেতের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক তৈয়ব আলী। এতে তার প্রায় ৭ বিঘা জমির ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনা নিয়ে ভুক্তভোগী কৃষক, কীটনাশক বিক্রেতা ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের মধুপুর কাকলি এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুপুর গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী সম্প্রতি তার ৭ বিঘা জমিতে পোকা ও রোগবালাই দমনে কীটনাশক স্প্রে করেন। তবে ওষুধ ছিটানোর তিন দিন পার হতেই ধানক্ষেতের চেহারা বদলে যায় এবং পাতা শুকিয়ে মরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ভুক্তভোগী কৃষক তৈয়ব আলী জানান, ধানক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে তিনি স্থানীয় ডিলারের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক স্প্রে করেন। কিন্তু স্প্রে করার তিন দিনের মাথায় ধানগাছগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। বিষয়টি দেখে অন্যান্য স্থানীয় কৃষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এর সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় এক অভিজ্ঞ কৃষক বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষি কাজ করছি, ধানের এমন ক্ষতি সচরাচর দেখা যায় না। ভুল ওষুধ বা মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হলে তা শুধু ধান নয়, অন্যান্য ফসলের জন্যও বড় ধরনের হুমকি।”

তবে সার ও কীটনাশক বিক্রেতা হবিবর রহমান দাবি করেন, কৃষক তৈয়ব আলী মাজরা পোকা ও পাতা পচা রোগের ওষুধ চাইলে তাকে নিয়ম অনুযায়ী কীটনাশক দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে তিনি কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে জমি পরিদর্শন করেছেন। তার মতে, এটি কীটনাশকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না-ও হতে পারে; বরং ধানক্ষেতে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (BLB) বা পাতা পোড়া রোগের লক্ষণ হতে পারে।

এদিকে রুহিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, কৃষক তার ৭ বিঘা জমিতে একাধিক কীটনাশক একসঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করেছিলেন। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার তীব্র রোদের মধ্যে এই স্প্রে করা হয়। কড়া রোদে একাধিক ওষুধের মিশ্রণ ব্যবহারের কারণেই ধানগাছের পাতায় এমন হলদে ভাব দেখা দিয়েছে।

তবে কৃষকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “এটি বড় ধরনের কোনো স্থায়ী ক্ষতি নয়। জমিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা এবং দস্তা বা জিংক স্প্রে করলে ধানগাছ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।” বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কৃষককে প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য:

PhotoCard Icon
Create PhotoCard