পার্বতীপুরে এএসপির বোনের অভিযোগ: মৃত স্বামীর স্বাক্ষর জাল করে বন্ধকি দলিল, তদন্তে পুলিশ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
শীর্ষ ❯
হোম / অপরাধ / বিস্তারিত

পার্বতীপুরে এএসপির বোনের অভিযোগ: মৃত স্বামীর স্বাক্ষর জাল করে বন্ধকি দলিল, তদন্তে পুলিশ

25 July 2026, 10:29:43

পার্বতীপুরে এএসপির বোনের অভিযোগ: মৃত স্বামীর স্বাক্ষর জাল করে বন্ধকি দলিল, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পার্বতীপুর (দিনাজপুর):

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (এএসপি) বোনের মৃত স্বামীর স্বাক্ষর জাল করে কথিত বন্ধকি দলিল তৈরি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজনীন নাহার মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে নাজনীন নাহারের স্বামী তাজুল ইসলাম মারা যান। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমিতে বর্গাচাষ করা এক ব্যক্তি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি কথিত বন্ধকি দলিল দেখিয়ে জমির দাবি করছেন। দলিলে থাকা স্বাক্ষর যাচাই করে সেটি তাঁর মৃত স্বামীর নয় বলে সন্দেহ হয়। পরে তিনি স্বাক্ষরটি জাল বলে অভিযোগ করেন।

নাজনীন নাহারের দাবি, জমি ফেরত চাইলে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম তাঁকে গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি দাবি করা টাকা পরিশোধ না করলে জমিতে যেতে বাধা দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম বলেন, তাঁর পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি চক্রের প্ররোচনায় জাল স্বাক্ষরযুক্ত দলিল তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তিনি এটিকে নিজের ভুল বলে স্বীকার করেন। চক্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পাঁচপুকুরিয়া এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী লাবলুর নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চান এবং দাবি করা দেড় লাখ টাকার পাওনা ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানান।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কথিত জাল দলিল তৈরির পেছনে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী লাবলুর পরামর্শ ও ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বন বিভাগের চোরাই গাছের অবৈধ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বন বিভাগের জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে লিখিয়ে পরে তা দখলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাঠ ব্যবসায়ী লাবলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত কর্মকর্তা মহসিন আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে তদন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত হননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য:

PhotoCard Icon
Create PhotoCard