ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীহীন কৃষি প্রযুক্তি মেলা, প্রশ্নের মুখে কৃষকদের সম্পৃক্ততা | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / কৃষি / বিস্তারিত

ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীহীন কৃষি প্রযুক্তি মেলা, প্রশ্নের মুখে কৃষকদের সম্পৃক্ততা

16 July 2026, 12:51:17

ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীহীন কৃষি প্রযুক্তি মেলা, প্রশ্নের মুখে কৃষকদের সম্পৃক্ততা

মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ:

আধুনিক ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ আয়োজন করা হলেও প্রথম দুই দিন মেলার চিত্র ছিল হতাশাজনক। ১৩টি স্টল নিয়ে আয়োজিত এই মেলায় দর্শনার্থী ছিল হাতে গোনা, অধিকাংশ স্টলেই বেচাকেনা ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।
ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (ডিএই পার্ট) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার মেলার উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখা যায়, স্টলগুলোতে বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও ছিল সীমিত।
প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ মিয়া ও জাহিদ হাসান জানান, মেলার খবর তারা সাংবাদিকের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছেন। তাঁদের দাবি, অতীতে কৃষি প্রযুক্তি মেলা উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে প্রচারণা চলত, কৃষকদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। ফলে মেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। এবার সেই চিত্র একেবারেই অনুপস্থিত।
স্টল মালিকদের অভিযোগও একই। বনরাজ হর্টিকালচার নার্সারির মালিক মহররম আলী বলেন, দর্শনার্থী না থাকায় খরচই উঠছে না। হোসাইন নার্সারির প্রতিনিধি ফারুক মিয়া বলেন, আগে কখনও এত ফাঁকা মেলা দেখেননি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষিনির্ভর উপজেলার মানুষের আগ্রহ এখন আগের মতো কৃষিকেন্দ্রিক নেই। অনেক তরুণ কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশা কিংবা বিদেশমুখী হচ্ছেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি এখন মানুষের বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে, অথচ কৃষিভিত্তিক আয়োজন তুলনামূলকভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত জনসম্পৃক্ততা তৈরির পরিবর্তে যদি আয়োজনগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। কৃষি এখনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলেও বাস্তবে কৃষিবিষয়ক কর্মসূচি অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান গণমাধ্যমকে বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, প্রচারণার কোনো ঘাটতি ছিল না; মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়েছে। শেষ দিনে কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
যদি প্রচারণা যথেষ্ট হয়ে থাকে, তবে অধিকাংশ কৃষক মেলার খবর জানলেন না কেন? ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের সংগঠিতভাবে আনা হয়নি কেন? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা কতটা ছিল? মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সীমিত থাকার কারণই বা কী?
মেলার প্রাণহীন এমন চিত্র কয়েকটি বিষয় সামনে নিয়ে আসে—
১. প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের ঘাটতি। ২. কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের অভাব। ৩. কৃষি বিষয়ে সামাজিক আগ্রহ কমে যাওয়া। ৪. স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির তুলনায় কৃষিভিত্তিক আয়োজন কম অগ্রাধিকার পাওয়া।
স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়নভিত্তিক কৃষকদের আমন্ত্রণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, কৃষি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা এবং কার্যকর প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কৃষি প্রযুক্তি মেলা আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: