শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতাঃ শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় চেতনার উন্মেষ
শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতাঃ শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় চেতনার উন্মেষ

চিতলমারী প্রতিনিধি, ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০২৫।
বাগেরহাটের চিতলমারীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কাজী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুনা গাজী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পরিষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক শেখ, চিতলমারী আলিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইদ্রিসুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জাহিদুজ্জামান নান্না, নায়েবে আমীর ও মুক্তিযোদ্ধা শিকদার আব্দুর আলী, চরবানিয়ারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান শেখ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক শহর আলী গাজী, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য শেখ অনিক, ফয়জুল হক কাজী ও আবুল বাসার তালুকদারসহ অনেকেই।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলেজ প্রাঙ্গণ কুরআন তিলাওয়াত ও হামদের সুরে মুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের আবেগঘন কণ্ঠে নবীপ্রেমের প্রকাশে মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক ভিন্নধর্মী পরিবেশ।
বক্তারা বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনদর্শন শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক। সত্য, ন্যায়, সহমর্মিতা ও শান্তির শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করলেই সমাজে প্রকৃত মানবিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
মাহফিলে বক্তারা ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মহানবী (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন অন্ধকার দূর করে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের আলো ছড়িয়ে দিতে। তাঁর জন্মদিন স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আমরা যেমন অতীতের মহিমা ধারণ করি, তেমনি বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করি।
হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে উঠে আসে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভক্তির মিশেল। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে। এতে জাতির সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও দেশবাসীর শান্তি কামনা করা হয়।
অতিথিরা আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে নৈতিকতা, ধর্মীয় চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। আগামী প্রজন্মকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী ও সমাজের জন্য কল্যাণকর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এর ভূমিকা অপরিসীম।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হারুন-অর-রশিদ। কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে সফল ও স্মরণীয় করে তোলেন।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: