স্কুল টাইমে পার্কে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর
স্কুল টাইমে পার্কে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, ইউএনও'র হস্তক্ষেপে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর):
স্কুলের পোশাক পরিহিত তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে স্কুল চলাকালে আকস্মিক পার্কে ঘুরে বেড়াতে দেখে থমকে যান পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি এগিয়ে যান শিশুটির কাছে এবং জানতে চান—স্কুল সময়ে সে কেন এখানে এসেছে এবং তার সঙ্গে অভিভাবক কেউ আছে কি না।
শিশুর দেওয়া উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে নিরাপদ হেফাজতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয় তার অভিভাবকদের। অভিভাবক কার্যালয়ে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত শিশুটির সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও স্বাভাবিক পরিবেশে কথা বলেন ইউএনও।
প্রাথমিক আলাপচারিতায় শিশুটি জানায়, সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে আসার কারণ ব্যাখ্যার পাশাপাশি সে একই বয়সী আরেক বান্ধবীর বিষয়েও কিছু তথ্য প্রকাশ করে। এ সময় শিশুটির হাতে মেহেদি রাঙানো ছিল। ছোট্ট হাতে আঁকা নানা নকশাও ইউএনওর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি শিশুর জীবনে কেন এ ধরনের বিষয়গুলো এত দ্রুত প্রবেশ করছে—সেই প্রশ্নটিই বড় হয়ে সামনে এসেছে। অবশ্য একটি শিশুর বক্তব্য বা আচরণের ওপর ভিত্তি করে তাড়াহুড়ো করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। বরং পুরো বিষয়টিকে শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ, পারিবারিক নজরদারি এবং বিদ্যালয়ের ভূমিকার জায়গা থেকে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
এই ঘটনাটি সমাজ ও প্রশাসনের সামনে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। স্কুল চলাকালে একটি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করলে বিষয়টি কি অভিভাবক কিংবা শিক্ষকদের নজরে আসে না? শিশুর হাতে মেহেদি লাগানো, তার চলাফেরা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা স্কুল ফাঁকি দেওয়ার মতো বিষয়গুলো কি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনার অংশ? বিদ্যালয় কি কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিবদ্ধ শিক্ষা প্রদান করবে, নাকি প্রতিটি শিক্ষার্থীর আচরণগত পরিবর্তন ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়েও সমানভাবে নজর রাখবে?
শিশুর শৈশব হলো তার ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে অতিরিক্ত সামাজিক চাপ, অনলাইন-অফলাইনের নানা প্রভাব কিংবা বয়সের তুলনায় অপরিণত বিভিন্ন ধারণার উপস্থিতি তার স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল শাসন বা ধমক নয়, বরং প্রয়োজন সচেতনতা, সন্তানকে সময় দেওয়া, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ এবং পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল নজরদারি।
ভান্ডারিয়ার এই ঘটনাটি কেবল একজন শিক্ষার্থীর স্কুল ফাঁকি দেওয়ার বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; এটি পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমগ্র সমাজের প্রতি একটি জোরালো সতর্কবার্তা। আমরা কি আমাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছি? তাদের বন্ধুমহল, ভাবনা এবং মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনগুলো কি আমরা জানতে সচেষ্ট হচ্ছি? নাকি সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই নীরবধি হারিয়ে যাচ্ছে তাদের নির্মল শৈশব? এই প্রশ্নগুলো এখন কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং প্রতিটি অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকের বিবেকের সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



