সোমবার থেকে বনবিভাগের অনুমতি মিলছে সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশে | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

সোমবার থেকে বনবিভাগের অনুমতি মিলছে সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশে

31 August 2025, 11:23:14

সোমবার থেকে বনবিভাগের অনুমতি মিলছে সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশে

আজাদ রুহুল আমিন, বাগেরহাট : ৩১ আগস্ট রবিবার ২০২৫।
তিন মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল সোমবার থেকে আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবনের দ্বার। বনবিভাগের অনুমতি মিলছে পর্যটক, বনজীবী ও জেলেদের জন্য। এতে বনের অভয়ারণ্য ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নতুন উদ্যমে শুরু হবে জেলেদের মাছ ধরা এবং পর্যটকদের আনাগোনা। ইতোমধ্যে সুন্দরবনের ১১টি পর্যটনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্য এলাকাকে প্রস্তুত করেছে বনবিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদ-নদী, খাল ও বনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এ সময়ে জেলে ও বনজীবীদের নৌযান চলাচলও বন্ধ ছিল।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার জেলে পল্লী হিসেবে পরিচিত বগা, মাদারতলা, চারাখালি, আন্ধারমানিক, বিষখালি, বাধাল, চিতলমারীর উমাজুরি, খাসেরহাট চরবানিয়ারি এবং মোরেলগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রামের অসংখ্য জেলে দীর্ঘ ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহান।

মওলা বাওয়ালি, রিয়াজুল বাওয়ালি ও মাদারতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, বনবিভাগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে তাদের মাঝে উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে নৌকা, জাল ও মাঝিমাল্লা নিয়ে তারা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে পরিবার চালাতে গত তিন মাসে অনেককেই এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন তারা আবার সুন্দরবনে ফেরার অপেক্ষায়।

পর্যটনের জন্য এ সময়কে অফ সিজন ধরা হয়। অক্টোবর–নভেম্বর থেকে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। তবে কেউ কেউ এ মৌসুমের ভিন্ন রোমাঞ্চ উপভোগ করতে আগ্রহী। সানি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী সোহরাব হোসেন জানান, আগামী ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন তার লঞ্চে ২৫ থেকে ৬০ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে যাবেন। ঢাকা, কুষ্টিয়া, মোংলা ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পর্যটকরা আসবেন। তাদের গন্তব্য হবে আন্ধারমানিক, হারবাড়িয়া ও করমজল।

দীর্ঘদিন কর্মহীন থেকে জীবিকা চালাতে জেলেদের কষ্ট হয়েছে। কচুয়ার নুরইসলাম মাতবর বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা মাছ ধরা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি মেলায় হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, কটকা, কচিখালী, করমজল, হারবাড়িয়া ও আন্ধারমানিকসহ ১১টি পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ সময়ে হরিণ, বানরসহ বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে অনুমতিপত্র (পাস) ইস্যু শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট টহল ফাঁড়িগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বনজীবী ও পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনের সব পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলেদের সহায়তায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকা যাচাই করছে মৎস্য দপ্তর। আগামী বছর থেকে জেলেরা খাদ্য সহায়তাও পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে নদী ও খালে মাছের প্রজনন বেড়েছে। ২০১৯ সাল থেকে ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিংয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এ নিয়ম কার্যকর রয়েছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: