সুপেয় পানির সংকট কাটাতে চিতলমারীতে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় সভা
সুপেয় পানির সংকট কাটাতে চিতলমারীতে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় সভা

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে বাগেরহাটের চিতলমারীতে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগেরহাট-১ আসনের বিএনপির কান্ডারী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠিত সভায় চিতলমারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভায় বিএনপির উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দলটির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিরাপদ পানির সংকটের চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয় নেতারা। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, মধুমতী নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ, খাল-নদী পরিষ্কার ও পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা এবং স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়।
চিতলমারী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবিব ঠান্ডু বলেন, নিরাপদ পানির অভাবে চিতলমারীতে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করলে পানির সংকট অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু চাহিদার তুলনায় পানি সংরক্ষণের ট্যাংক অপ্রতুল। তাই প্রতিটি পরিবারকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুযোগ করে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি চিতলমারীতে ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও সমস্যা রয়েছে। বাজার এলাকার খালগুলোতে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাড়ির বাথরুম ও গোয়ালঘরের বর্জ্য পাইপ দিয়ে খালে ফেলা হচ্ছে। ফলে পানি দূষণের পাশাপাশি পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি খাল-নদী পরিষ্কার রাখা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পানির লবণাক্ততা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চিতলমারীর অনেক এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি মধুমতী নদীর পানি শোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় দখল করে মাটি ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সভায় কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, চিতলমারীবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গভীর নলকূপ স্থাপন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অল্প সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “মধুমতী নদীর পানি শোধন করে সরবরাহসহ বিকল্প বিভিন্ন উপায়ে চিতলমারীর দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে। সুপেয় পানির সংকট নিরসন আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করব।”
প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিতলমারীর সুপেয় পানির সমস্যা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য সমাধানগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “সুপেয় পানির সংকট নিরসনে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ কাজে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আলোচনা সভায় বাগেরহাট জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, চিতলমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শেখ আজমল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, চিতলমারীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির উৎস সৃষ্টি, পানি শোধন ও সরবরাহ, খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণও কমানো সম্ভব হবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: