রাজাপুরে অনুমতি ছাড়াই খালের আয়রন ব্রিজ খুলে নেওয়ার অভিযোগ: বিপাকে চার গ্রামের মানুষ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / জনদুর্ভোগ / বিস্তারিত

রাজাপুরে অনুমতি ছাড়াই খালের আয়রন ব্রিজ খুলে নেওয়ার অভিযোগ: বিপাকে চার গ্রামের মানুষ

23 August 2026, 11:15:18

রাজাপুরে অনুমতি ছাড়াই খালের আয়রন ব্রিজ খুলে নেওয়ার অভিযোগ: বিপাকে চার গ্রামের মানুষ

মোঃ ইমরান মুন্সি, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

​ঝালকাঠির রাজাপুরে দাপ্তরিক কোনো অনুমতি ও বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা না করে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি আয়রন ব্রিজের লোহার মালামাল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এতে চার গ্রামের কয়েকশ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই খালের ওপরের সেতুটি দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্কুল শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করেই এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে গোপনে সেতুর বীম ও মালামাল তুলে নিচ্ছিলেন সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরবর্তীতে এলজিইডি অফিস থেকে লোকজন এসে মালামালের তালিকা তৈরি করে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হেমায়েতের জিম্মায় রেখে যায়। সেতুটির কিছু স্লাব ভাঙা থাকায় এলাকাবাসী আগে সুপারি গাছ দিয়ে পারাপার হলেও এটিই ছিল তাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।

​অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন আকন বলেন, “সেতুর মালামাল তুলেছি পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য। সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল হায়দার নিপু এবং ৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের অনুমতি নিয়েই এগুলো তোলা হয়েছে।” তবে মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি এলাকায় সামাজিক কাজ করেন।

​সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফিরোজা খানম-এর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মাইনুল হায়দার নিপু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি কাউকে ওই ব্রিজের বীমসহ মালামাল তুলে নেওয়ার অনুমতি দিইনি। মালামাল অন্যত্র নিতে হলে পরিষদে রেজুলেশন করে এবং জনগণের যাতায়াতের জন্য নতুন ব্রিজ বা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই তা করতে হবে। এখানে মামুন আকনের কোনো অধিকার নেই।”

​রাজাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না এবং দল এ ধরনের কাজ সমর্থন করে না। এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়, এবং প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক বলেন, “মালামাল ওঠানোর আগে তারা আমাদের কোনো অনুমতি নেননি। খবর পেয়ে লোক পাঠিয়ে জব্দ তালিকা করা হয়েছে। মালামালগুলো ইউনিয়ন পরিষদে এনে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সেতুটি পুনঃস্থাপন অথবা জনসাধারণের চলাচলের জন্য অবিলম্বে একটি কার্যকর বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: