বেরোবিতে অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি: প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও স্মারকলিপি জমা
বেরোবিতে অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি: প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও স্মারকলিপি জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুরে বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নতুন করে নির্ধারিত ফি আগের তুলনায় দেড় গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তি ফি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, বিদ্যুৎ বিল ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, পরিবহন ফি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং মেডিকেল সেন্টার ফি ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের ব্যাচগুলোর তুলনায় শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখলেও সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক খাতে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এই বর্ধিত ফি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় একই ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চল থেকে আগত। বর্তমান জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় হঠাৎ করে ফি বৃদ্ধি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল খাতে আরোপিত অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি অবিলম্বে বাতিল করা’, ‘১৬তম আবর্তনের সময়কার ফি কাঠামো পুনর্বহাল করা’ এবং ‘১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ পরবর্তী সেমিস্টারের ফি’র সঙ্গে সমন্বয় অথবা সরাসরি ফেরত দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ এই তিনটি দাবি তুলে ধরেন।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মিনার হোসেন নয়ন বলেন, “আমাদের ওপর পূর্বের তুলনায় অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাই এত টাকা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা চাই প্রশাসন আগের ব্যাচগুলোর মতো আমাদের ফিও পূর্বের হার অনুযায়ী বহাল রাখুক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “আমরা একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হবে, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে কি না।”
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: