ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, চিতলমারীতে বিএনপির ঝাড়ু-জুতা মিছিল
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, চিতলমারীতে বিএনপির ঝাড়ু-জুতা মিছিল

চিতলমারী প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ না দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জণ হালদারের অপসারণ দাবি করেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারীকে হাতে ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান।
নিয়োগপ্রত্যাশী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য সম্প্রতি চিতলমারী উপজেলায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর তাদের অভিযোগ, ইউএনও খাদিজা আক্তার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জণ হালদারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটিতে অনিয়ম করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কোনো নেতাকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমনকি আবেদনকারীদের তালিকাও বিএনপির নেতাদের দেখতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এ অবস্থায় প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য দেন বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিপন মুন্সি, বিএনপি নেতা শেখ জাহিদুর রহমান ও শেখ নোয়াব আলী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নিয়ামত আলী খান এবং কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক জবরুল শেখ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিতলমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জণ হালদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষা গ্রহণের পর মেধার ভিত্তিতেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বর্তমানে ওই ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি বা দলীয়করণ করা হয়নি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, নিয়ম মেনেই নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে মূল্যায়ন সঠিকভাবে হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: