তজুমদ্দিনে স্ত্রীর চোখ উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ: পলাতক নরপিশাচ স্বামী | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

তজুমদ্দিনে স্ত্রীর চোখ উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ: পলাতক নরপিশাচ স্বামী

28 April 2026, 1:07:07

তজুমদ্দিনে স্ত্রীর চোখ উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ: পলাতক নরপিশাচ স্বামী

এইচ এম হাছনাইন, তজুমদ্দিন প্রতিনিধিঃ
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক নির্মম ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে সালমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর বাম চোখ উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তার স্বামী সাগর আহম্মেদের বিরুদ্ধে।
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ সকালে উপজেলার ৪নং শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কালু মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সালমা বেগম জানান, তার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ভোরে তার বাবা ফোন করে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কে জানান এবং বড় ভাই চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন। এ সময় বাবার সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে তার স্বামী সাগর আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

পরিস্থিতি এড়াতে সালমা ফোন কেটে দিয়ে ছোট সন্তানকে নিয়ে পুকুরে হাত-মুখ ধুতে যান। কিন্তু সেখানেও স্বামী তাকে অনুসরণ করে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে বিষয়টি শ্বশুরকে জানাতে ঘরে গেলে সাগর সেখানে গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি নৃশংসভাবে আঙুল দিয়ে সালমার বাম চোখ উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সালমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সাগর আহম্মেদ পলাতক রয়েছেন। তার বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উক্ত ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: