ঝালকাঠিতে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আলোর মুখ দেখছে দাদার স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়, নতুন ভবনের নির্দেশ
ঝালকাঠিতে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আলোর মুখ দেখছে দাদার স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়, নতুন ভবনের নির্দেশ

মোঃ ইমরান মুন্সি, জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠিঃ
ঝালকাঠির একটি অবহেলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের করুণ চিত্র সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (ঝালকাঠি-১) মাহমুদা মিতু। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত ও উন্নয়নবঞ্চিত এই বিদ্যালয়টির জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জরুরি সহায়তা চাইলে, মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে নতুন ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে এমপি মাহমুদা মিতু জানান, যে বিদ্যালয়টি থেকে তিনি ২৩ বছর আগে বৃত্তি পেয়েছিলেন, আজও সেটি ন্যুনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাহমুদা মিতুর দাদার বাবা এবং বিদ্যালয়ের পুরো জমিটিও তাঁরই দান করা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন থাকলেও মাধ্যমিক শাখার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো টিউবওয়েল, এমনকি ব্যবহারযোগ্য কোনো বাথরুমও নেই। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডটি পর্যন্ত ভেঙে পড়েছিল, যা পরে উদ্ধার করা হয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো—বিদ্যালয়টিতে কোনো ফ্যান নেই। চুরির ভয়ে বা ফ্যান না থাকায় শিক্ষকরা নিজ বাসা থেকে ফ্যান নিয়ে এসে ক্লাস নেন এবং ছুটি শেষে সেগুলো আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই দৃশ্যকেই মাহমুদা মিতু তথাকথিত উন্নয়নের ‘বাস্তব চিত্র’ বলে অভিহিত করেছেন।
কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরলে, তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে এমপি মাহমুদা মিতু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার হাতে যদি সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকত, তবে জনগণের হকের এক পয়সাও আমি দুর্নীতি হতে দিতাম না। মানুষ কীভাবে অন্যের হক কেড়ে নিজের পকেটে নেয়, তা আমার কল্পনার বাইরে। আমরা সবাই যেন দুর্নীতির এক গোলকধাঁধায় আটকে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুটির কাছেও পৌঁছায়। আজও দেশের হাজারো শিশু একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ থেকে বঞ্চিত। এই চিত্র পরিবর্তন করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, শিক্ষামন্ত্রীর এই দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনপ্রতিনিধির সচেতনতায় অবহেলিত বিদ্যালয়টি নতুন জীবন পেতে যাচ্ছে, যা এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: