সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর ফের আত্মসমর্পণ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / অপরাধ / বিস্তারিত

সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর ফের আত্মসমর্পণ

21 May 2026, 5:21:10

সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর ফের আত্মসমর্পণ

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ

‎‎সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমনসহ সাতজন দস্যু ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আবারও আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেন এ দস্যু বাহিনী।

‎এ সময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ২০১৮ সালেও র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ছোট সুমন বাহিনী।

‎কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন’র জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

‎এ অভিযানের প্রেক্ষিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগী সদস্যরা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

‎সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ মোট ৭ জন দস্যু অস্ত্র ও গুলিসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

‎এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২ টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি গ্রহণ করা হয়। এরপর ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২০১৮ সালেও ছোট সুমন বাহিনী র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো।
‎আত্মসমর্পণ করা ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, এর আগে এক বছর ডাকাতি করে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করি।

‎এরপর ব্যবসা বাণিজ্য করে চলছিলাম। কিন্ত বিগত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হই। তারপরও ইচ্ছা ছিলনা ডাকাতিতে নামার কিন্তু বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছিল।
‎এবারও বছরখানেক সময় ডাকাতির পর সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি আমাদের মামলাগুলো যেন সহজ করে দেওয়া হয়।

‎আর আমরা নতুন করে যেন কোন হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার না হই। আমরা যেন টুকটাক ব্যবসা বাণিজ্য করে বেঁচে থাকতে পারি।
‎অপর সহযোগী সদস্যরা বলেন, সারাক্ষণ প্রশাসনের ভয়ে থাকতে হতো। ছিল না ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া ও ঘুমও। যখন-তখন মৃত্যুর ভয় নিয়ে জীবনটাকে ঠোঁটের মাথায় নিয়ে চলতে হতো। কোস্টগার্ড সুযোগ দেওয়ায় আমরা আত্মসমর্পণ করলাম।

‎আত্মসমর্পণকারী দস্যু সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) মোংলা ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪) রামপালের বাসিন্দা।

‎কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের সব দস্যু বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে কোস্ট গার্ড।

‎এদিকে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুইটি পৃথক বিশেষ অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ২৬ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গুলি ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: