শনিবার ৮ আগস্ট, ২০২৬

শিলাইদহে রবীন্দ্রজয়ন্তীর জাতীয় উৎসব শুরু,সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর কুষ্টিয়া

9 May, 2026 7:58:11
শিলাইদহে রবীন্দ্রজয়ন্তীর জাতীয় উৎসব শুরু,সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর কুষ্টিয়া

তানভীর আজাদ স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়াঃ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়ি যেন আবারও ফিরে পেয়েছে রবীন্দ্রনাথের সময়কে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার থেকে সেখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালা। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে দিনভর ছিল উৎসব, দর্শনার্থীদের ভিড় আর সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্য।
দুপুরে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। উদ্বোধনের পর তিনি শিলাইদহ কুঠিবাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে সংরক্ষিত কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা স্মারক পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সৌহরাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
“শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা, আলোচনা সভা ও মঞ্চনাটক। সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় কুঠিবাড়ি এলাকা পরিণত হয় এক ভিন্ন আবহে। শিল্পীদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত আর আবৃত্তিতে মুগ্ধ হন আগত দর্শনার্থীরা।
তবে এবার আয়োজনের সঙ্গে থাকছে না ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেই তিন দিনের অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে। আগামী রোববার রাত পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির সামনে তৈরি করা হয়েছে সুসজ্জিত মঞ্চ। প্রবেশপথজুড়ে আঁকা হয়েছে বর্ণিল আলপনা। নতুন রঙে সাজানো হয়েছে দেয়াল ও গাছের গোড়া। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কুমারখালীর শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। তাঁর জন্মদিন মানে বাঙালির সাংস্কৃতিক উৎসব।”
দৌলতপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রাসেল রেজা বলেন, “অনেকদিন ধরে শিলাইদহে আসার ইচ্ছে ছিল। জন্মজয়ন্তীর এই পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, কালবৈশাখীসহ যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জানা যায়, ১৮৯১ সালে জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নিয়ে শিলাইদহে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পদ্মাপাড়ের প্রকৃতি ও জনজীবন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এখানেই তিনি রচনা করেন ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’সহ বহু কালজয়ী সাহিত্যকর্ম। শিলাইদহেই রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ তাঁকে এনে দেয় বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নোবেল পুরস্কার।

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport