ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চিতলমারীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চিতলমারীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

16 October 2025, 10:22:53

ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চিতলমারীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ন্যায্য ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
তাদের দাবি — ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসবভাতা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে চিতলমারী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজনে এ কর্মবিরতি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।

চিতলমারী উপজেলা বিএনপির নেত্রী রুনা গাজী বলেন,

“শিক্ষক সমাজ জাতির মেরুদণ্ড। অথচ তাদের ন্যায্য প্রাপ্য এখনও অস্বীকৃত — এটি লজ্জাজনক। সরকার অবিলম্বে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, এটাই প্রত্যাশা।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন,

“এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর বৈষম্যের শিকার। বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধি আজ সময়ের দাবি।”

জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন,

“শিক্ষকদের দাবিগুলো পূরণ মানে দেশের ভবিষ্যতের প্রতি বিনিয়োগ করা। আমরা তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ডা. আবুল কালাম কাজী বলেন,

“শিক্ষক সমাজের প্রতি অবিচার স্থায়ী সামাজিক ক্ষতি বয়ে আনে। সরকারকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

চিতলমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি একরামুল হক মুন্সী বলেন,

“শিক্ষকদের এই ন্যায্য আন্দোলনের খবর আমরা গণমাধ্যমে তুলে ধরব। সাংবাদিক সমাজ তাদের পাশে আছে।”

শেরে বাংলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মিজানুর রহমান বলেন,

“এই আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, এটি আমাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।”

কালিদাস বড়াল স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার রায় বলেন,

“২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও ১,৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা শুধু আর্থিক চাওয়া নয়, এটি শিক্ষক সমাজের মৌলিক প্রাপ্তি।”

চিতলমারী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইদ্রিসুর রহমান বলেন,

“আমরা শিক্ষা সেবক হলেও আজ জীবিকা নির্বাহই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুক।”

উপজেলা জেনারেল শিক্ষক সমিতির সভাপতি সোয়ায়েব হোসেন গাজী জানান,

“দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলার সব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে।”

সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষক সংগঠন, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও সাধারণ মানুষ শিক্ষকদের এই ন্যায্য আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: