শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কাপাসিয়ায় যুবককে পিটিয়ে জখম: আহতকে হাসপাতালে নেওয়ায় বাধা সেনাসদস্য ও তার পরিবারের

10 September, 2026 7:40:09
কাপাসিয়ায় যুবককে পিটিয়ে জখম: আহতকে হাসপাতালে নেওয়ায় বাধা সাবেক সেনাসদস্য ও তার পরিবারের

‎গাজীপুর প্রতিনিধি:


‎গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সুমন নামে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত সুমনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সময় পুলিশকে বাধা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য হাসান ও তার বাবা আক্তার হোসেন এবং চাচা আতিকুল ও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে।

‎আহত সুমন মিয়া (৩৭) উপজেলার টোক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দিগাব এলাকার বাসিন্দা রইস উদ্দীনের ছেলে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

‎মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দিগাব সামনাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা সুমনের বসতবাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সামনেই তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সুমন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে ধরাধরি করে সামনাবাজারে নিয়ে আসা হয়।

‎খবর পেয়ে টোক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনকে মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎আহত সুমনের স্ত্রী হালিমা জানান, বসতবাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে তারা। আক্তার প্রথমে মারপিট শুরু করে, পরে ধরে রাখছিলো তার ভাই আতিকুল ও সাদ্দাম ইচ্ছামতো এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। এতে তার স্বামী সুমন মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সুমনের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। তিনি তার স্বামীকে অহেতুক মারধরের ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তার দাবি, শুধু সুমনকে নয়, তার বাবা-মাকেও অভিযুক্তরা মারধর করেছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় সুমনকে ‘মরে গেলেও চিকিৎসার জন্য নিতে দেওয়া হবে না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

‎প্রত্যক্ষদর্শী শেফালী আক্তার বলেন, আক্তার হোসেন, আতিকুল ও সাদ্দাম সুমনকে মারধর করে অচেতন করে ফেলে রাখেন। পরে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে ছুটিতে থাকা সেনা সদস্য হাসান, তার বাবা ও চাচারা বাধা দেন। এমনকি সুমন মারা গেলেও চিকিৎসার জন্য নিতে দেওয়া হবে না, এমন কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‎টোক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুমনকে মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় পাই। চিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে ছুটিতে থাকা সৈনিক হাসান পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং আইনি কাজে বাধা দেন। তিনি ও অন্য অভিযুক্তরা পুলিশের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

‎ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান ও কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

‎অভিযোগ অস্বীকার করে ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য হাসান বলেন, তার বাবা ও চাচারাই সুমনকে মারধর করেছেন। পুলিশ সুমনকে চিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের কেউ তার কলার ধরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। কে তার কলার ধরেছেন, তা নিশ্চিত করতে কিংবা প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

‎স্থানীয় বিএনপি নেতা মিলন জানান, ঘটনার পর আক্তার খবর দিয়েছে, এসে দেখি সুমন অচেতন অবস্থায় পরে ছিলো। জানতে চাইলে সুমন কে মারধোরের কথা তারা স্বীকার করেছে। ছুটিতে থাকা সেনা সদস্যের গায়ে এসআই রফিকুল ইসলাম হাত দেননি। কে বা কারা তার কলার ধরেছে তা সঠিক বলতে পারেননি তিনি।

‎৯নং ওয়ার্ড জামায়াত সেক্রেটারির রফিকুল ইসলাম বলেন, সুমনের বাড়ির পাশে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তিনি নিজে সুমন কে মুমূর্ষু অবস্থায় ধরে ধরে সামনা বাজারের পাশে নিয়ে আসেন। এসময় তার পায়ের আঙুল থেকে রক্ত পরতে ছিলো এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো বলে তিনি জানান।

‎অভিযুক্ত আক্তার হোসেন মারধরের কথা স্বীকার করে দাবি করেন, তার বোনকে সুমন কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে তিনি সুমনকে ধরেন। পরে তার ভাই আতিকুল ও সাদ্দাম তাকে কিল-ঘুষি মারেন।
‎আতিকুলও মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা মেরেছি, কয়েকটি কিল-ঘুষি দিয়েছি। তার ভাতিজা ছুটিতে থাকা সেনা সদস্যের কোন দোষ নেই।

‎গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রথম দায়িত্ব। দিঘাব এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় পুলিশকে আইনি কাজে বাধা ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য হাসানের পুলিশ কর্তৃক মারধর বা কলার ধরার অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশের আইনি কাজে অসহযোগিতা করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport

PhotoCard Icon
Create PhotoCard