মোরেলগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই সমাজসেবার প্রকল্প ঘর ভাঙার অভিযোগ, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দাবি
অনুমতি ছাড়াই সমাজসেবার প্রকল্প ঘর ভাঙার অভিযোগ, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দাবি
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন প্রকল্পের (ইডিএম) একটি অফিসঘর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভেঙে ফেলা এবং সেখানকার টিন, ইট, কাঠ ও বাঁশসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য গফফার খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পলিটিক্স মোড়সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন প্রকল্পের (ইডিএম) ওই অফিসঘরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কয়েকদিন আগে লোকজন নিয়ে সেটি ভেঙে বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন ওরফে মার্জুম জমাদ্দার বলেন, “সমাজসেবার ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। কয়েকদিন আগে সাবেক মেম্বার গফফার খান লোকজন নিয়ে ঘরটি ভেঙে টিন, দেয়ালের ইট, কাঠ ও বাঁশসহ বিভিন্ন মালামাল তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থাপনাটির আঙিনায় থাকা সরকারি গাছ কাটারও বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য গফফার খান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘরটির ভাঙা টিন আমি গুছিয়ে মসজিদে রেখে দিয়েছি, যাতে টিনগুলো বেহাত না হয়।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা ভাঙা এবং এর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে স্থাপনাটি ভাঙার অনুমোদন, প্রকল্পের মালামালের মালিকানা, ভেঙে নেওয়া সামগ্রীর পরিমাণ এবং সেগুলো বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও নজরে আসে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “সমাজসেবা অফিসের আওতাধীন ঘরটি ভাঙার খবর পেয়ে আমি নিজে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং ইউএনও স্যারকেও অবহিত করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থাপনাটি নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।”
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



