আলীকদমে ২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব জবরদখল: সাংবাদিকদের মারধর ও নথিপত্র খোয়ানোর অভিযোগ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / Uncategorized / বিস্তারিত

আলীকদমে ২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব জবরদখল: সাংবাদিকদের মারধর ও নথিপত্র খোয়ানোর অভিযোগ

15 June 2026, 2:13:28

আলীকদমে ২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব জবরদখল: সাংবাদিকদের মারধর ও নথিপত্র খোয়ানোর অভিযোগ

আলীকদম, বান্দরবান প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় দীর্ঘ ২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘আলীকদম প্রেসক্লাব’ ভবন জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে প্রেসক্লাব সদস্যদের মারধর করে বের করে দেওয়ার পর তালা ভেঙে ভবনটি দখলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া বিতর্কিত নেতা আবুল কালামের নেতৃত্বে এই তান্ডব চালানো হয়েছে। তার প্রত্যক্ষ উস্কানিতে একটি তথাকথিত কমিটির সদস্য ও বহিরাগতরা মিলে এই দখলযজ্ঞ সম্পন্ন করে।

প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ জানান, ১৯৯৮ সালে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে তারা চারজন মিলে এই প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির স্থানীয় বাজারমূল্য পাঁচ কোটি টাকার বেশি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০১৯ সালেও একটি ভূয়া কমিটি গঠন করে সে দখলের চেষ্টা করেছিল। সেবারও প্রশাসনকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রশাসন তার ষড়যন্ত্রে পা দেয়নি। বিভিন্ন সময়ে আবুল কালামের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, মাদক চোরাচালান, সরকারি অর্থ আত্মসাত নিয়ে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে সে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ওপর রুষ্ট ছিলেন।’

সভাপতি আরও জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রেসক্লাবের দুজন সদস্যকে পদত্যাগ করানো হয়। পরে সেই পদত্যাগকারী সদস্যদের ব্যবহার করেই ভূঁইফোড় আরও কয়েকজন সংবাদকর্মীকে নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি তথাকথিত ‘আহ্বায়ক কমিটি’ গঠন করা হয়। শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের পর বিকেলেই ওই ব্যক্তিদের নিয়ে এবং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সংবাদকর্মীদের জড়ো করে প্রেসক্লাব ভবনের তালা ভেঙে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা হয়। এই সময় ক্লাব ভবনের আশেপাশে শতাধিক বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের জড়ো করানো হয়। এই সময় ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব, রেজাউল, শাহ আলম, প্রেসক্লাব সভাপতির পঞ্চমশ্রেণি পড়ুয়া ছেলে রাহী, নবমশ্রেণি পড়ুয়া ওহীকে লাঠিচার্জ করে মারধর করা হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, ঘটনার সময় আলীকদম জোন থেকে সেনা সদস্যরা এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্লাবচত্ত্বর থেকে মারধর করে সরিয়ে দেয়। পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম উপস্থিত হন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ইউএনও’র উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরেই দখলদাররা তালা ভাঙার সাহস পায়।

ইউএনও মনজুর আলম দাবি করেছেন, ‘প্রেসক্লাব একটি সরকারি সম্পত্তি। এটি খোলা থাকবে এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারী যে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন।’ তার এই বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই দখলদাররা উৎসাহিত হয়েছে বলে দাবি করছেন প্রেসক্লাব সভাপতি। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবী ১৯৯৯ সালে প্রণীত গঠনতন্ত্রের আলোকে প্রেসক্লাবের সদস্য সংগ্রহ ও পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ইউএনওর মতে, সাংবাদিক হলেও যেকেউ ক্লাবের সদস্য হতে পারবেন।
এ সময় আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, সেনাবাহিনী দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ঘটনাস্থলে এসেছে। প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব বা পরিচালনা কারা করবে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না।

ঘটনার দিন বান্দরবান পুলিশ সুপারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন প্রেসক্লাব সভাপতি। এই সময় তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আশ্বাস দিলেও, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং রাতেই বহিরাগতরা ক্লাবের অফিসকক্ষে ঢুকে ৫৬ ধরণের মালামালের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

সাংবাদিকদের উদ্বেগ:
আলীকদম প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘একটি পেশাজীবী ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কেন্দ্র কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি।’

ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, দখলদারদের চিহ্নিতকরণ এবং প্রেসক্লাবে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা আলীকদমের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: