বরখাস্ত, মামলা, লড়াই—শেষে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার’ ড. রশিদুন্ নবীর
বরখাস্ত, মামলা, লড়াই—শেষে বাংলা একাডেমির 'নজরুল পুরস্কার' ড. রশিদুন্ নবীর

দেবদূত কর তীর্থ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলা একাডেমির ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, স্বরলিপিকার ও সংগীতজ্ঞ প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবী। আগামী ২৩ মে বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদুন্ নবী ১৯৮০ সাল থেকে নজরুল গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮৯ সালে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরে অধ্যাপক (গ্রেড-১) পদে উন্নীত হন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগীত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, দোলনচাঁপা হলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভোস্ট এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নজরুলসংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক রশিদুন্ নবী সর্বাধিক সংখ্যক নজরুলসংগীতের সংকলনগ্রন্থ ‘নজরুল-সংগীত সংগ্রহ’-এর সম্পাদক। এছাড়া নজরুল বিষয়ক গবেষণা, স্বরলিপি ও সম্পাদিত গ্রন্থ মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশের অধিক। বিভিন্ন জার্নাল ও গবেষণামূলক গ্রন্থে তাঁর প্রায় অর্ধশত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
নজরুল গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এর আগে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৭’, বাংলাভিশন ফাউন্ডেশন থেকে ‘কবি নজরুল স্মৃতি পদক ২০১৭’, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ার নজরুল একাডেমি থেকে ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৮’ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নজরুল পদক ২০২৫’ লাভ করেন। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি সংবর্ধনা ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা চলাকালে তাঁকে এক দীর্ঘ প্রতিকূল সময় অতিক্রম করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে অসম্মতি জানানোয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর পুনরায় চাকরিতে ফিরতে সক্ষম হন। তবে তাঁর সমর্থকদের দাবি, আদালতের রায় পাওয়ার পরও তাঁকে দীর্ঘসময় যোগদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ শাকিল হাশমি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট প্রশাসন এই মানুষটিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিল। প্রায় তিন বছর আদালতে লড়াই করে চাকরি ফিরে পেলেও তিনি তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা পাননি। আদালতের রায় পাওয়ার পরও তাঁকে দীর্ঘদিন যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র তাঁর কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাঁকে অসম্মান, অসহযোগিতা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তিনি আদালতের বারান্দায় বসেও নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে গেছেন।
তাঁকে ফ্যাকাল্টির ডিনশিপ দেওয়া হয়নি। আদালতের রায়ের মাধ্যমে যোগদানের পর চেয়ারম্যানশিপও ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের আরও সম্মানজনক স্বীকৃতি ও পদকে ভূষিত হবেন—এ বিষয়ে আমরা আশাবাদী। আল্লাহ তাঁর সহায় হোন।’
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের মতে, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও নজরুল গবেষণায় ড. রশিদুন্ নবীর নিরবচ্ছিন্ন অবদান দেশের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক অঙ্গনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: