শরীয়াহ অমান্য করে সমস্যার সমাধান নয়: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
শরীয়াহ অমান্য করে সমস্যার সমাধান নয়: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

এইচ এম হাছনাইন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গতকাল সংসদে পাশ হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন-১৮৮২ এর সংশোধনকল্পে আনীত “সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬” এর সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ শিরোনামে আইনমন্ত্রীর দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতির পাশাপাশি আরেকটি পদ্ধতি যোগ করতে এই আইন করা হয়েছে। প্রথমতঃ এখানে পরিস্কার করে বলে রাখা দরকার যে, সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামী শরীয়াহতে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এখানে নতুন করে কোন পদ্ধতি সংযোজন করার দরকার নাই, সুযোগও নাই। দ্বিতীয়তঃ এই আইনের কারণ ব্যাখ্যায় মন্ত্রীদের বক্তব্যে যে বার্তা পাওয়া যাচ্ছে তাহলো, শরীয়াহ নির্দেশিত উত্তরাধিকার আইনকে এড়িয়ে সন্তানদের জন্য সম্পত্তি এককভাবে নির্দিষ্ট করা নিমিত্তে “হেবা”র অপব্যবহারে সৃষ্ট একটি সমস্যার সমাধান সরকার করতে চাইছে। ইসলামের উত্তরাধিকার আইনে কোন কোন পরিস্থিতিতে সম্পত্তি সন্তানদের বাইরেও ভাই, চাচা,দাদা ও অন্যান্যদের অধিকারে পরিনত হয়। তেমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের বাইরের অন্যদের বঞ্চিত করতে সন্তানদের নামে সম্পত্তি “হেবা” করার একটি প্রবনতা আমাদের সমাজে বিদ্যমান। শরীয়াহর উত্তরাধিকার আইনকে বাইপাস করার এই প্রবনতার একটি গ্রাহ্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হলো, যেই সন্তানের জন্য শরীয়াহকে বাইপাস করা হচ্ছে সেই সন্তানই “হেবা”সূত্রে সম্পদের মালিক হয়ে বাবা-মাকে সম্পদের ভোগ থেকে উচ্ছেদ করছে। এই উচ্ছেদ করা অনেক ক্ষেত্রেই মানবিক প্রশ্ন তৈরি করে। সেই মানবিক প্রশ্ন সমাধান করা জরুরী কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে, এই সমস্যা শরীয়াহকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট। তাই এই সমস্যা সমাধান করার জন্য আবারো শরীয়াহকে অমান্য করে “হেবা”র বিধানে পরিবর্তন করা যাবে না। বরং সর্বত্র শরীয়াহ মান্য করার মানসিকতা রাখতে হবে।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, হেবার পরে সম্পত্তি থেকে বাবা-মাকে উচ্ছেদের ঘটনা রোধ করতে আমাদের সমাজে, সংস্কৃতিতে ও শিক্ষায় বাবা-মায়ের প্রতি সন্মানের ধারণাকে গ্রোথিত করতে হবে। একই সাথে বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে শরীয়াহকে আরেকবার অমান্য করা যায় না।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য না। কারণ হেবাকৃত সম্পত্তির ওপরে হেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হলে হেবা সম্পন্ন হবে না। আর হেবা সম্পন্ন না হলে হেবাকারী ব্যক্তির মৃত্যুর পরে সেই সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হবে। এতোসব জটিলতা নিয়ে কোন আইন হতে পারে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আমরা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সুধারণা রাখছি। তবে সম্ভবত গভীরভাবে না ভেবেই আইনটি আনা হয়েছে। সেজন্য সরকারকে বলবো, আইনটি নিয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করুন। উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সাথে পরামর্শ করুন। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। কিন্তু সমস্যা সমাধানের নামে কোন অবস্থাতেই শরীয়াহ অমান্য করা যাবে না।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: