মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ: পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে ধানমন্ডি থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ: পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে ধানমন্ডি থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২৬:
সিআর মামলা নং-৪৯৭/২০২৪-এর পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহাদাৎ হোসেন ফরাজীকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ধানমন্ডি মডেল থানার বিরুদ্ধে আদালতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তামিল প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন সৃজন টেক লিমিটেডের পরিচালক মো. নাজমুল হোসেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নড়িয়া থানা সিআর আদালত, শরীয়তপুরে শাহাদাৎ হোসেন ফরাজীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় মামলাটি করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, বায়নাবাবদ গ্রহণ করা ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ মোট প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আবেদনকারীর দাবি, মামলার বিষয়ে সিআইডি শরীয়তপুর জেলা তদন্ত সম্পন্ন করে এবং ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তা কার্যকরের জন্য ধানমন্ডি মডেল থানায় পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, পরোয়ানা তামিলকারী কর্মকর্তা আদালতে এমন একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে—ধানমন্ডির হাউজ নং-৫১৯/এ (৪র্থ তলা), রোড নং-১ ঠিকানায় আসামি অবস্থান করেন না। বাদীপক্ষের দাবি, ওই প্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আবেদনকারীর অভিযোগ, শাহাদাৎ হোসেন ফরাজী বর্তমানে ওই ঠিকানায় নিয়মিত অফিস করেন এবং সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, আসামির ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি, প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন ভিডিওতে তার নিয়মিত কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ডিজিটাল তথ্য পর্যালোচনা করলে আসামির অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়ার সুযোগ ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগেও মীমাংসার কথা বলে বাদীপক্ষের পরিবারের সদস্যকে ধানমন্ডির ওই অফিসে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে টাকা ফেরত না দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্তার অভিযোগও করা হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, ধানমন্ডি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি আগেই পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগকারীর আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আদালতে দাখিল করা তামিল প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই এবং কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহাদাৎ হোসেন ফরাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা অভিযুক্ত শাহাদাৎ হোসেন ফরাজীর বক্তব্য এই আবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংযুক্ত প্রমাণাদি হিসেবে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের জবানবন্দির অনুলিপি, ধানমন্ডি মডেল থানার তামিল প্রতিবেদনের কপি এবং আসামির অবস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের দাবির পক্ষে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য উপস্থাপনের কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: