ব্যাংকে ডেকে নিয়ে বিকাশ এজেন্টের সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন
ব্যাংকে ডেকে নিয়ে বিকাশ এজেন্টের সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন
দেওয়ান মাসুকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৪ জুলাই ২০২৬ :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এনসিসি ব্যাংকের ভেতরে সংঘটিত প্রতারণার শিকার হয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা খোয়ানোর অভিযোগ করেছেন এক বিকাশ এজেন্ট।
১৫ জুলাই (মঙ্গলবার ২০২৬) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ‘ইকো শপ’ নামে বিকাশ এজেন্ট মো. রায়হান মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত জুন মাসে নিজেকে এনসিসি ব্যাংকের শ্রীমঙ্গল শাখার একজন কর্মচারী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিকাশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রস্তাব দেন। পরে গত ২৮ জুন ওই ব্যক্তির ডাকে তিনি এনসিসি ব্যাংকের শ্রীমঙ্গল শাখায় যান। সেখানে তাকে ব্যাংকের স্টাফ কক্ষে বসানো হয় এবং ব্যাংকের এক কর্মচারীর মাধ্যমে কফি ও পরে বিরিয়ানি খাওয়ানো হয়। খাবার খাওয়ার পর তিনি অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ ও ঝিমুনিভাব অনুভব করেন বলে দাবি করেন।
রায়হান মিয়ার অভিযোগ, ওই অবস্থায় প্রতারকের দেওয়া ছয়টি বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান। প্রতারক তাকে আশ্বস্ত করেন, ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে সমপরিমাণ নগদ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তি কৌশলে ব্যাংক সটকে পড়ে। এরপর ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে তারা ব্যাংকের সুনামের কথা বিবেচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে চেনেন না বলে দাবি করে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রায়হান মিয়া বলেন, একজন অপরিচিত ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও স্টাফ কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পেলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকের সামনে তাকে রিসিভ করা এবং ভেতরে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করতে দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তার খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
এনসিসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক জয় দীপ বিশ্বাস জানান, ঘটনার দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি দুই নারী পুরুষের নামে দেড় কোটি টাকার এফডিআর করার একটি প্রস্তাব নিয়ে ব্যাংকে আসে। এসময় সে কৌশলে স্টাফদের সাথে সখ্যতা গড়ে নিজেকে ব্যাংকের স্টাফ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করে। আমরা ব্যাংকের একজন গ্রাহক হিসেবে তাদের কফি ও বিরিয়ানির আবদার করায় সৌজন্যতা বসত তা পরিবেশন করি। তিনি বলেন, বিকাশ এজেন্ট প্রতারকের দেয়া নাম্বারে দফায় দফায় যে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাঠানোর দাবী করেছেন এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকের কোন স্টাফদের কাছে অবহিত করেনি। প্রতারক কৌশলে ব্যাংক ত্যাগ করার পর বিকাশ এজেন্ট আমাদের অবহিত করার পর প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ে।
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বিষয়ে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



