পূর্ব চৌরাস্তা দখলমুক্ত; দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে স্বস্তি ফিরছে পীরগঞ্জে
পূর্ব চৌরাস্তা দখলমুক্ত; দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে স্বস্তি ফিরছে পীরগঞ্জে
সাকিব আহসান, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়কসংযোগস্থল পূর্ব চৌরাস্তা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, দোকানের বর্ধিত অংশ এবং ফুটপাত দখলের কারণে নিত্যদিনের যানজটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরাসরি হস্তক্ষেপে সম্প্রতি পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সড়কের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব চৌরাস্তা পীরগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও পথচারীর চলাচল হয়। কিন্তু সড়কের দুই পাশের কিছু দোকানদার ব্যবসার পরিধি বাড়াতে রাস্তার অংশ ও ফুটপাত দখল করে রাখায় যানবাহন চলাচল ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত সময়গুলোতে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চাপ বেড়ে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে রাস্তার ওপর স্থাপিত টিনের ঘেরা, বাঁশের কাঠামো ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা এই চৌরাস্তায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। অল্প দূরত্ব পার হতে অনেক সময় লেগে যেত। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এখন মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে।”
রিকশাচালক মো. শাহীন জানান, “আগে যাত্রী নিয়ে পূর্ব চৌরাস্তা পার হতে গেলে প্রায়ই আটকে থাকতে হতো। অনেক সময় যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে যেতেন। এখন রাস্তা কিছুটা ফাঁকা হওয়ায় কাজ করতেও সুবিধা হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম মনে করেন, সড়ক দখলমুক্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে কিছু দোকানদারের অসুবিধা হলেও বৃহত্তর জনস্বার্থে এটি প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, “ব্যবসা করতে হলে নিয়ম মেনেই করতে হবে। রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সঠিক।”
শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, “স্কুল ও কলেজে যাওয়ার সময় প্রায়ই যানজটে আটকে পড়তাম। পরীক্ষার দিনও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন রাস্তা খোলামেলা হওয়ায় স্বস্তি লাগছে।”
তবে কয়েকজন দোকানদার দাবি করেন, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হলে আরও ভালো হতো। যদিও অধিকাংশই স্বীকার করেছেন যে জনস্বার্থে সড়ক দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু একদিনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত তদারকি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দখলমুক্ত অবস্থা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় কিছুদিন পর আবারও রাস্তা ও ফুটপাত দখলের প্রবণতা ফিরে আসতে পারে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে নিয়মিত মনিটরিং জরুরি। পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে যে রাস্তা ও ফুটপাত জনসাধারণের সম্পদ, ব্যক্তিগত ব্যবসার জায়গা নয়।”
পীরগঞ্জের পূর্ব চৌরাস্তা দখলমুক্ত হওয়া শুধু একটি উচ্ছেদ অভিযান নয়; এটি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। এখন সবার প্রত্যাশা, প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকির মাধ্যমে পূর্ব চৌরাস্তা ভবিষ্যতেও দখলমুক্ত ও যানজটমুক্ত থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



