পঞ্চগড়ের বোদায় গোপন কেবিনে গর্ভপাতের অভিযোগ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম

পঞ্চগড়ের বোদায় গোপন কেবিনে গর্ভপাতের অভিযোগ

20 April 2026, 12:34:59

পঞ্চগড়ের বোদায় গোপন কেবিনে গর্ভপাতের অভিযোগ

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নে এক ফার্মেসি বিক্রেতার গোপন কেবিনে নাবালিকা (১৫) মেয়ের পাঁচ মাসের গর্ভের অবৈধ গর্ভপাত করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা ফার্মেসির ভেতরে অবৈধ নির্জন কক্ষ ও পেছনের গোপন দরজা দেখতে পান, যার মধ্য দিয়ে ওই নারীসহ ৪-৫ জন পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ফার্মেসি বিক্রেতা ডাবলু তার দোকানের ভেতরে গোপন কেবিনে ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া এলাকার এক নাবালিকা মেয়ের (১৫) পাঁচ মাসের গর্ভের ভ্রূণ হত্যার চেষ্টা করছেন।

রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দোকানের শাটার বন্ধ পাওয়া যায় কিন্তু তালাবদ্ধ ছিল না। সাংবাদিকরা রোগী সেজে ডাবলুকে ফোন দিলে তিনি গোপন চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসেন।
একজন পরিচয় গোপন রেখে প্রেশার মাপিয়ে দেখতে বললে তিনি বলেন “এখন প্রেশার মাপা যাবে না। অন্য কোনো দোকানে যান।” এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে জানালে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং ভেতরে কেউ নেই বলে দাবী করেন।
সাথে সাথেই সাংবাদিকরা দোকানের ভেতরে যেতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন এবং প্রায় ২০ মিনিট কথা বলার পর তিনি স্বীকার করেন, ভেতরে একজন মেয়ে এবং তার মা সাথে একজন নার্স রয়েছে। মেয়ের পেটে বাচ্চা ছিলো বিভিন্ন কারণে একটু সমস্যা হয়েছে।

একপর্যায়ে ডাবলু স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সহ সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামকে ফোন দিলে উভয়ে সাংবাদিকদের একটি নির্ধারিত স্থানে যেতে বলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ডাবলু সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দিলে দেখা যায়, গোপন কেবিনটি ফাঁকা। কেবিনের পেছনের গোপন দরজা দিয়ে সবাই পালিয়ে গিয়েছে এবং দোকানের পেছনে কচুগাছ ভাঙা অবস্থায় দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ৪-৫ জন সেদিক দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে এই গোপন কেবিন ও পালানোর পথ ব্যবহার করে অবৈধ গর্ভপাতের মতো কাজ চলে আসছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ ঘন্টা দোকানের ভেতর সেই কেবিনে ছিলেন ডাবলু এবং ওষুধের দোকানটি বন্ধ ছিলো। ডাবলু ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে কাজটি করেন বলেও জানা যায়। এ বিষয়ে সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে না এসে অন্যত্র আলোচনার আহ্বান জানিয়ে, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, “আমরা একসাথে আছি। আমরা যদি ওখানে যাই, সেখানে একটা মারামারি হবে। আপনারা তো আমাদেরই লোক, আপনারা আসেন এখানে আলাপ আলোচনা করি, চা খাই।”

এবিষয়ে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির বলেন, “তার যদি ড্রাগ লাইসেন্স থাকে, তিনি ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন, তিনি প্র্যাকটিশনও করতে পারবেন না। তার গোপন কেবিন ও পেছনের দরজা কেন আছে—সেটা দেখতে হবে। আপনারা ইউএনও স্যারকেও অবগত করুন।”

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার তথ্য সহ ডাবলুর স্বীকারোক্তি হোয়াটসঅ্যাপ পাঠাতে বলেন এবং সেইসাথে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাবলুর এই কর্মকাণ্ডে কেউ কেউ আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন বলে সন্দেহ রয়েছে। নাবালিকা মেয়ের পাঁচ মাসের গর্ভের অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আইনগত অপরাধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য: