শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুড়িগ্রামে খুরা রোগে ৯ গরুর মৃত্যু, আক্রান্ত প্রায় আড়াই শতাধিক

15 May, 2026 11:30:32
কুড়িগ্রামে খুরা রোগে ৯ গরুর মৃত্যু, আক্রান্ত প্রায় আড়াই শতাধিক

আসাদুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রামে গবাদি পশুর মধ্যে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত অন্তত ৯ টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় শত শত গবাদি পশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে খামারি, এলাকাবাসী এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগ । কোরবানি ঈদের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে খুরার সংক্রমণ খামারি ও গবাদি পশু মালিকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আক্রান্ত এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে ভাইরাসবাহিত রোগ হওয়ায় সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, জেলার তিনটি উপজেলায় অন্তত দুইশ থেকে আড়াইশ’ গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় সহসাই সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের হরিশ্বর জোৎগোবরধন এলাকায় খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে একটি গর্ভবতী গাভিসহ দুটি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও ওই এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ টি গরু খুরায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের জোৎগোবরধন গ্রামের গৃহস্থ আলতাফ হোসেন জনালেন তার একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে মারা গেছে। গাভীটি ভর্তি (গর্ভবতী) ছিল। চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হয় নাই।’ তার দাবি এতে করে তার অন্তত দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এই ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আবু হোসেন বলেন,‘ প্রতিবছর ঈদে বিক্রির জন্য দুই একটা গরু পালন করি। গরু বিক্রির টাকায় সংসারে প্রয়োজন মেটাই। কিন্তু এবার যখন গরু বিক্রির সময় হলো তখনই খুরা রোগে আমার সব শেষ করে দিলো। গরুটা খুব অসুস্থ। বিক্রিতো করতে পারবো না, বাঁচবে কি না তাও জানি না।’
গরুর খুরা রোগের ভুক্তভোগী ওই গ্রামের আরেক ক্ষুদ্র খামারি একরামুল হক। তার খামারে তিনটি গরু খুরা রোগে আক্রান্ত। তার মধ্যে দুগ্ধবতী একটি গাভীর জিহবা খুরা আক্রান্ত হয়ে খসে গেছে। দুশ্চিন্তায় অন্ধকার দেখছেন একরামুল। তিনি জানালেন, ‘খামারের গরুর দুধ বিক্রি করে তার যা আয় হয়। সেই আয় এখন বন্ধ। চিকিৎসা করাচ্ছি। কিন্তু গরু-বাছুর বাঁচবে কি না সেটাই বুঝতে পারছি না।’
সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের পল্লী প্রাণী চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ জানালেন, জেলায় প্রচুর গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসায় সুস্থও হচ্ছে। তবে ঈদের আগে এই রোগের সংক্রমণ খামারি ও গৃহস্থদের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রোগাক্রান্ত গরু বিক্রি করতে পারবে না। অপর দিকে সুস্থ হওয়া গরুর স্বাস্থ্যহানি হওয়ায় দাম কম পাবে।’
রোগ ছড়ানোর কারণ উল্লেখ করে এই পল্লী প্রাণী চিকিৎসক বললেন, ‘ রোগপ্রতিরোধে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনেশন হয়নি। আবার বাজারে ভ্যাকসিনের দাম বেশি হওয়ায় রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে গরুর মালিকরা ভ্যাকসিন কিনতে চান না। ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এবার চিকিৎসায় আক্রান্ত গরু সুস্থ হওয়ার হার বেশি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বললেন, জেলার তিনটি উপজেলায় সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলেও অন্য উপজেলাতেও রোগ দেখা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত শুধু গরুর মধ্যে এই রোগ ছড়িয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা দিচ্ছি। গতকাল পযন্ত জেলায় প্রায় ২৫০ টি গরুর মধ্যে এই রোগ সংক্রামিত হয়েছে।’

 

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport

PhotoCard Icon
Create PhotoCard