বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর, ২০২৬

কাঠালিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

2 November, 2026 11:19:51
কাঠালিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

​মোঃ ইমরান মুন্সি,ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১১৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু একজন নয়, বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়েশা সিদ্দীকা ও কুলসুম নামের তৃতীয় শ্রেণির দুই শিশুর নামও রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

​স্থানীয় ও অনুসন্ধানী সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হীরা নামের এক নারী শিক্ষা অফিসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তিনি ভুক্তভোগী শিশুর দূরসম্পর্কের আত্মীয় হলেও সরাসরি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য নন। পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে শুনেছি। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলেও শুনছি। আমি বাড়িতে থাকি না, তাই বিস্তারিত সবকিছু আমার জানা নেই।’

​বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দীকা ও কুলসুমসহ অন্যান্য কোমলমতি শিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষক তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এমন একটি অভিযোগ হয়েছিল। পরে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।’ জরিমানার টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘টাকা নেওয়া হয়েছিল, তবে পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই টাকা অন্য এক শিক্ষকের কাছে জমা রয়েছে।’

​এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে এম জামান জানান, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

​একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মূল দায়িত্ব যেখানে শিক্ষকদের, সেখানে একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport

PhotoCard Icon
Create PhotoCard