এক মাস পেরোলেও পীর শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে
এক মাস পেরোলেও পীর শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে
তানভীর আজাদ স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার এক মাস অতিক্রম করেছে। কিন্তু এখনো গ্রেপ্তার হয়নি মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারভুক্ত আরও কয়েকজন। সেই সঙ্গে হামলার সময় দরবার শরিফ থেকে লুট হওয়া মূল্যবান মালামালও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ, যিনি কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি এবং দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য, এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন। তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন বলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক নথি পৌঁছেনি।
এজাহারে নাম থাকা আরও দুই আসামি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের স্থানীয় নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও সিহাব ওরফে সাফি, এখনও পলাতক।
তবে তদন্ত থেমে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে র্যাব গ্রেপ্তার করে মামলার অন্যতম আসামি রাজিব মিস্ত্রি ওরফে কিলার রাজিবকে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয় আলমগীর হোসেন, বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে।
পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিপ্লব ও আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পলাতকদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। কিশোর আলমগীরকে পাঠানো হয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে।
দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ঘটনার তিন দিন পর নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport

