উসমানী মেডিকেলের সামনে ঔষধের দামে সিন্ডিকেট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরা
উসমানী মেডিকেলের সামনে ঔষধের দামে সিন্ডিকেট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরা
দেওয়ান মাসুকুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফার্মেসিগুলোতে একই কোম্পানির একই ঔষধ ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে আসা রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে ঔষধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম থেকে জরুরি চিকিৎসার জন্য আসা মানুষগুলো প্রথমেই যান হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে নানা ধরনের ঔষধ লিখে দেন। এরপরই দৌড়াতে হয় মেডিকেল গেইটের সামনের ফার্মেসিগুলোতে।

কিন্তু এক দোকানে যে ঔষধের দাম ২০ টাকা, পাশের দোকানেই সেটা ৩০-৪০ টাকা। আবার কোনো দোকানে স্ট্রিপের দাম বেশি, কোনো দোকানে সিরাপের দাম বেশি।
ভুক্তভোগীদের কথা:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, “গ্রাম থেকে রাত ১২ টায় বিপদে পড়ে এসেছি। ডাক্তার ৫ টা ঔষধ লিখে দিল। এক দোকানে দাম চাইল ৮৫০ টাকা, আরেক দোকানে ১২০০ টাকা। বিপদের সময় দামাদামির সময় কই? বাধ্য হয়ে কিনে নিলাম।”
দেওয়ান ইমামুল হোসেন নামে আরেকজন বলেন, “সরকার চাইলেই প্রতিটি ঔষধের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য MRP নির্ধারণ করে দিতে পারে। তাহলে এই সিন্ডিকেট থাকত না। এখন ফার্মেসিওয়ালারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ জিম্মি।”
ফার্মেসি মালিকদের বক্তব্য:
কয়েকজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কোম্পানি থেকে বিভিন্ন রেটে ঔষধ কিনি। আবার ভাড়া, কর্মচারীর বেতন আছে। তাই দাম একটু এদিক-সেদিক হয়।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের সামনে হওয়ায় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে রাখে। রোগীর স্বজনরা জরুরি অবস্থায় দাম যাচাই করার সুযোগ পায় না।
বিশেষজ্ঞদের মত:
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “ঔষধের গায়ে MRP দেওয়া বাধ্যতামূলক। MRP এর বেশি দামে বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অভিযোগ পেলে ১৬১২১ নম্বরে কল করুন।”
এ বিষয়ে দ্রুত মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



