বটিয়াঘাটা সদরে খাল ভরাট করে অবৈধ ভাবে দোকানঘর ও ভবন নির্মাণ, এ যেনো দখল রাজ্য
বটিয়াঘাটা সদরে খাল ভরাট করে অবৈধ ভাবে দোকানঘর ও ভবন নির্মাণ, এ যেনো দখল রাজ্য

রিপন রায়, খুলনা (বটিয়াঘাটা) প্রতিনিধিঃ
বটিয়াঘাটার অধিকাংশ নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে চরমভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কচুরিপানা জমে থাকায় এবং দখল দূষণে খালগুলো পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলেছে। এতে করে দিন দিন খালগুলোর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অবস্থা চলে আসলেও নদী ও খালগুলো রক্ষায় নেওয়া হয়নি উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ। ‘এসব কারণে আগামীতে কৃষি কাজও মারাত্মক ভাবে ব্যহতের আশঙ্কায় এলাকার হাজার হাজার কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। সরেজমিনে ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে ৮২টি বেশি খাল ও জলাশয় রয়েছে। এর ভিতর ৫০টি খালের ইজরা দেওয়া হয়। বাকি ৩২টি রেকডীয়খাল ও জলাগুলো অবৈধ প্লট ব্যবসার নামে ওই সকল ভরাটি সরকারি রেকডীয়খালের উপরদিয়ে প্লটের রাস্তা নির্মাণ করে দখল করে নিচ্ছে। এতে করে কৃত্রিম জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ সরকারী খাস খালে দীর্ঘদিন যাবৎ কচুরিপানা জমে আছে। দেখে মনে হবে পুরো খাল জুড়ে সবুজে ঘেরা কোনো মাঠ অথবা চলছে কচুরিপানার প্রদর্শন। কোথাও পানির দেখা নেই। কিছু খালে আবার কচুরিপানা পচে গন্ধ, মাছি ও মশার জন্ম হচ্ছে। এই পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ছাড়া কিছু খাল নাম মাত্র ইজারা নিয়ে ইজারাদার অথবা গায়ের জোরে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় দখলে রেখেছেন। বটিয়াঘাটা সদর হেতালবুনিয়া খালটির দু’পাশে ভরাট করে প্রশাসনের চোখের সামনে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে শত শত দোকানঘর ও পাকা ভবন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আড়াআড়ি অবৈধ ভাবে বাঁধ, খন্ড খন্ড টোনাজাল, নেটজাল, পাটাজাল, চাকজাল, কারেন্ট জাল ও পাটাতন নেটের বেড়া দিয়ে মাছচাষ করে চলেছে। তাছাড়া ছোট ছোট খালগুলো যে যার মতো দখল করে গড়ে তুলেছেন বসত ঘরসহ নানা কংক্রিটের স্থাপনা ও পাকা প্রাচীর। জলমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর মৌজায় ১৮ টি সরকারি ভরাটি খাল দখল করে নিয়েছে কতিপয় প্লট ব্যবসায়ীরা । স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে উক্ত ১৮ খালের মুক্ত করতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছে । কিন্তু প্রশাসনের অসহোযোগীতার কারণে দখলকৃত ভরাটি সরকারি খাল গুলো দখল মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না । ফলে দখল দূষণে ও কচুরিপানা জমে থাকায় খালগুলো পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে। সদর হাটবাটি হাটের ময়লা আর্বজনা খালে ফেলে খাল ভরাট করে চলেছে। এতে খালের গভীরতা সংকটে পড়েছে। একদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দূর্বলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে খালে পানি ধারন ক্ষমতা না থাকায় সেচ সংকটের কারণে রবি শস্য ও বোরো চাষ চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবী, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, কচুরিপানা অপসারণ এবং খালগুলো খনন না করলে আগামীতে কৃষি কাজে দেখা দিতে পারে চরম বিপর্যয়। আগে সরকারি খালগুলোতে পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি ছিলো। তখন এলাকার লোকজন নৌকায় করে বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়া করতো। এ ছাড়া কিছু লোক খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ হেতালবুনিয়াখাল, বয়ারভাঙ্গাখাল, হোগলবুনিয়াখাল, আমতলাখাল, বাদামতলাখাল, ইনেদারখাল, ঠাকুনবাড়ীরখাল, সমূদ্রেরখাল, গোগেরখাল, রামদিয়াখাল, হোগলাডাঙ্গাখাল, বাঁশবাড়িয়াখালসহ অধিকাংশ সরকারি খাস খালে কচুরিপানা জমে থাকায় এবং দখল দূষণে খালগুলোর পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর দিন দিন খালগুলোতে পলি পড়ে গভিরতা কমে আসছে। ফলে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া কচুরিপানা জমে থাকায় অনেক খালের কচুরিপানা পচে পানি দিয়ে দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। গবাদি পশু পানি খেতে পারে না। পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইরিধান, তরমুজ খেতেও সেচ সংকটে কৃষিখাত বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। এতে আবার সাপ, মশা ও মাছির উৎপাতও বেড়েছে। কচুরিপানা অপসারণ করে পানি ব্যবহারের উপযোগী করার অতিপ্রয়োজন বলে দাবি স্থানীয় খাল উপকূলীয় মানুষ। জাতীয় কৃষক সমিতির খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায় জানান, নদী খালগুলো যাদের দেখার কথা সেই কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। যে কারণে নদী খালগুলোতে কচুরিপানা জমে থাকে এবং দখল হয়ে যাচ্ছে। নদী খাল সংরক্ষণ আইন থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পরিবেশ, চাষাবাদ ও জীব বৈচিত্র চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসলেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী গোপাল কুমার দত্ত বলেন, এখনো পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি কচুরিপানার অসুবিধার বিষয়ে আমাদের জানায়নি। তারপরও খোঁজ খবর নিয়ে আমাদের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের জানাবো। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান এর নিকট জানতে তিনি খুলনা গ্ৰেজেটকে বলেন, ইতিমধ্যে আমি যোগদানের পর থেকে উপজেলায় যে সকল সরকারি রেকডীয় খাল অবৈধ দখল মুক্ত করে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে । বাকি সরকারি রেকডীয় খাল গুলো রয়েছে সেগুলো সার্ভেয়ার দ্বারা ম্যাপ অনুযায়ী চিহ্নিত করে সিমানা পিলার স্থাপন পূর্বক সকল সরকারী খাল অবৈধ দখল মুক্ত করা হবে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল সরকারি রেকডীয় খাল দখল মুক্ত করে খনন করা হবে । ইতিমধ্যে খালা খননের জন্য কতৃপক্ষের নিকট প্রভোজাল পাঠানো হয়েছে । আশাকরি খুব দ্রুত তম সময়ের মধ্যে কতৃপক্ষ খননের নির্দেশনা দিতে পারে । নির্দেশনা পেলে খনন কাজ শুরু করা হবে ।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: