পটিয়ায় সুদ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন
পটিয়ায় সুদ ব্যবসায়ীর
বিরুদ্ধে মানববন্ধন
আবুল কালাম চৌধুরী, পটিয়া চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় সুদের কারবারের আড়ালে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন তিন নারী। রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে পটিয়া পৌরসভা থানার মোড়ে আয়োজিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শেখুপা আক্তার কলি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি অভিযুক্তের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদের ভিত্তিতে নেন। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্প ও তাঁর স্বামীর নামে থাকা একটি স্বাক্ষরিত খালি চেক নেওয়া হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করলেও খালি স্ট্যাম্প ও চেক ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং গভীর রাতে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেওয়া, অশোভন আচরণ করা এবং প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খালি চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কহিনুর আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি ৫০ হাজার টাকা সুদের ভিত্তিতে নেওয়ার সময় খালি স্ট্যাম্প ও স্বাক্ষরিত খালি চেক দিয়েছিলেন। পরে টাকা পরিশোধের পরও তাঁর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।
অপর ভুক্তভোগী কামরুন নাহার অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর ঋণ পরিশোধ করলেও তাঁর কাছে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুদের কারবারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে শোষণ ও নারীদের হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তারা জানান, এ ঘটনায় তিন ভুক্তভোগী এরই মধ্যে শেখুপা আক্তার কলিকে বাদী করে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাওলানা ওয়াহিদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কাউকে যৌন হয়রানি করিনি এবং কারও সঙ্গে অন্যায় আচরণও করিনি। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের একটি লিখিত অভিযোগ থানায় পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা সমীচীন হবে না।’
সর্বশেষ
- প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
- আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
Developed by bditsupport



