নেত্রকোনার বারহাট্টায় ইটের রাস্তা পাল্টাবে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ইটের রাস্তা পাল্টাবে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি;
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা সাতটি ইউনিয়ন ও ২৩৯ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। গ্রামীণ পরিবেশে বর্ষাকালে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। এ এলাকাটি মূলত কৃষি নির্ভর ও দুর্যোগপ্রবণ। দরিদ্র পীরিত মানুষগুলোর কৃষি পণ্য পরিবহণ ও দুর্যোগকালীন সময়ে অবাধ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মাটির কাচা রাস্তাসমূহ ব্যবহার অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ও কষ্টদায়ক। গ্রামীণ জনপদগুলো স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগীসহ অন্যান্য যেকোন সেবা গ্রহণের জন্য সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করা সময়ে দাবী ও যুগপযোগী
সার্বিক বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে ট্রেডিশনাল কাজগুলোকে সময়োপযোগী ও দুর্যোগকালীন ঝুকি কমাতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে মাটির কাচা রাস্তাসমূহ ইটসলিং ও এইচবিবি এবং সিসি করণের উদ্যেগ গ্রহণ করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ উবায়েদ উল্লাহ খান। এই পরিকল্পনার ফলে গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দাদের একদিকে যেমন ভোগান্তি কমে আসবে তেমনি বন্যাসহ যেকোন দুর্যোগে ভুক্তভোগীরা সহজেই যেতে পারবে বন্যা ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বারহাট্টা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এ উপজেলার সাত ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে কাবিটা ইট সলিং ১০ টি,এইচবিবি ১৩ টি টি.আর প্রকল্পের ইট সলিং ২১ ও এইচবিবি ১২ টি, সিসি ৩ টি, গমের বরাদ্দের ইট সলিং ৩ টি, এইচবিবি ১ টি, চালের বরাদ্দ ইট সলিং ৪ টি ও এইচবিবি ৩ টি। এসব রাস্তার কারণে গ্রামীণ রাস্তার স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। আগে টিআর, কাবিটা, কাবিখা বলতে শুধু রাস্তায় মাটি কাটার প্রকল্প দেওয়া হতো। একটু বেশি বৃষ্টিপাত হলেই মাটি চলে গিয়ে রাস্তা আবার আগের মত হয়ে যেত।এবার ইট সলিং, এইচবিবি হয়ে যাওয়ায় আর সেই ভোগান্তি হবেনা এবং সরকারি অর্থও অপচয় কম হবে বলে মনে করছেন উপকারভোগীরা।
সরেজমিনে বেশ কয়েকটি রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় টিআর,কাবিটা,কাবিখা কর্মসূচির অর্থ দ্বারা নির্মিত প্রতিটি প্রকল্পের শুরুতে স্থাপন করা হয়েছে স্থায়ী নামফলক। যার মাধ্যমে এলাকার সচেতন মানুষ জানতে পারছে বরাদ্দের পরিমাণ।
আসমা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল বাছির খান বলেন সামাজিক বিভিন্ন বৈঠক ও অনুষ্ঠানে প্রায়ই নিজ ইউনিয়নসহ অন্য ইউনিয়নে চলাচল করতে হয়।এই অর্থ বছরে ঝুঁকিপূর্ণ মাটির কাচা রাস্তাসমূহ ইটসলিং ও এইচবিবি করাই আমাদের গ্রামীণ যাতায়াত সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতে টিআর,কাবিটা,কাবিখা দ্বারা এই ইট সলিং ও এইচবিবি কাজ চলমান রাখতে পারলে আমাদের কষ্ট কমে আসবে।
বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন বারহাট্রা উপজেলাটি সুনামগঞ্জের সীমানাবর্তী ও সোমেশ্বরী নদীর পানির প্রবাহে কংস নদীর মাধ্যমে প্রায়ই বন্যায় আক্রান্ত হয়ে মাটির রাস্তাসহ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।যার ফলে মাটির কাজ চলাচলের উপযোগী রাখা কঠিন। (২০২৫-২৬) অর্থ বছরে এই প্রথম এ উপজেলায় সকল ইউনিয়নে মাটির রাস্তাসমূহ টেকসই ও কাদামুক্ত রাখতে বাস্তবায়িত হচ্ছে ইট সলিং ও এইচবিবি কাজ। তিনি আরও জানান, এটি যেন সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হয় সে আশা করছে এলাকাবাসীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























মন্তব্য: