সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খাস জমির পথ কেটে ঘের, নিরীহ পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ

17 January, 2026 2:38:43
খাস জমির পথ কেটে ঘের, নিরীহ পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ব্রক্ষগাতি কচুবুনিয়া বিলে দায়ের করা একটি মারধর ও লুটপাটের মামলাকে কেন্দ্র করে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসামিপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঘটনাটি আদৌ মামলায় যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বাস্তবে তার সঙ্গে মিল নেই; বরং এটি একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, যার মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দখল পাকাপোক্ত করা এবং নিরীহ পরিবারগুলোকে চাপে রাখা।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ১০০ বছর ধরে বসবাসরত অন্তত ১০টি পরিবার বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তাদের মূল সড়কে বের হওয়ার একমাত্র পথটি সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে থাকলেও সেটি কেটে ও ঘিরে সমতল করে ঘের নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এলাকাবাসীকে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ছোট শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়, আর কোনো বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী বা শিশু অসুস্থ হলে বাঁশের ঝাঁপা বেঁধে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না—যা ২০২৬ সালে এসে চরম অমানবিক বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
বাদীপক্ষের (কমলেশ মন্ডল) দায়ের করা মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলায় যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের যে দাবি করা হয়েছে, সেই অভিযোগে যাকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে (উজ্জ্বল কির্তুনিয়া) তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার কোনো মেশিনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন। এতে মামলার অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও দুর্বল হয়েছে বলে মত স্থানীয়দের।
এছাড়া মামলার প্রধান আসামি হিসেবে যাকে দেখানো হয়েছে সেই উত্তম মন্ডল একজন পেশাদার ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র একটি শাখায় কর্মরত। আসামিপক্ষের দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও মানহানি করাই এই মামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। তারা অভিযোগ করেছেন, চলাচলের পথ নিয়ে কথা বললেই খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং একের পর এক মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে আসামিপক্ষ চিতলমারী থানায় দায়ের করা পাল্টা অভিযোগে জানিয়েছে, সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে থাকা হাঁটার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বাদীপক্ষ তাতে সম্মত হয়নি। বরং মামলাবাজির আশ্রয় নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দিয়ে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা কি আদৌ আইনের শাসনের মধ্যে পড়ে? তারা দ্রুত উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং নিরীহ পরিবারগুলোর যাতায়াতের পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলা থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ

  • প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রিন্স মন্ডল অলিফ বার্তা সম্পদাক : মোঃ জাকির হোসেন
  • আইটি ইনর্জাচ : আসমা-উল-হুসনা মোবাইল : 01737208208
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় , ৩৭/৬, আজিমপুর রোড, আজিমপুর, ঢাকা-১২০৫ ইমেইল : buletin247@gmail.com, 01711977369

Developed by bditsupport

PhotoCard Icon
Create PhotoCard