কাঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে সরকারি খাল দখল করে পাকা স্থাপনা ও টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ, স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ
কাঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে সরকারি খাল দখল করে পাকা স্থাপনা ও টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ, স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ

মোঃ ইমরান মুন্সি, জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠিঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বানাই গ্রামের তফসেরের খেয়াঘাট সংলগ্ন বাকার খালের সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে একটি পাকা স্থাপনা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু দখলই নয়, ওই স্থাপনার নিচে টয়লেটের রিং ও পাইপলাইন সংযুক্ত করায় খালের পানি দূষণ এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১২ থেকে ১৫ ফুট প্রস্থের বিশাল একটি পাকা স্থাপনা খালের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ স্থাপনাটির প্রায় পুরো অংশটুকুই খালের প্রাকৃতিক প্রবাহের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে।
পাশাপাশি, সংলগ্ন বাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থাপনাটির নিচে টয়লেটের রিং বসানো হয়েছে। উন্মুক্ত ও ফাঁকা এই রিংয়ের কারণে খালের পানিতে সরাসরি বর্জ্য মিশছে, যা থেকে এখনই প্রচণ্ড দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সরকারি জায়গা দখল করে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে এই অবৈধ কাজ করার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এবং প্রশাসনের নজরে আসায় টনক নড়ে অভিযুক্তদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ এই স্থাপনাটি রক্ষার্থে এক অভিনব চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন অভিযুক্তরা। রাতের আঁধারে বা সুকৌশলে ওই স্থাপনার সামনে “জনস্বার্থে এলাকাবাসী” লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্থাপনাকে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এড়ানোর অপচেষ্টা এটি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজ দাবি করেছেন, খালের ভাঙনে তাদের নিজস্ব জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে বাধ্য হয়ে এই স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
তবে এমন দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, ভাঙনের অজুহাতে সরকারি খাল বা জলাশয় দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরি করা এবং তাতে টয়লেটের সংযোগ স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকার খালে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা ও টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: