রুহিয়া-ঠাকুরগাঁও প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষ | বিডি-প্রেস 24 ডট কম
হোম / জনদুর্ভোগ / বিস্তারিত

রুহিয়া-ঠাকুরগাঁও প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

14 September 2026, 8:44:13

রুহিয়া-ঠাকুরগাঁও প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

কুদরত আলী, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থেকে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কোথাও গর্তে জমে থাকছে বৃষ্টির পানি। এতে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
রুহিয়া থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে রুহিয়া উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলার মানুষও প্রতিদিন ঠাকুরগাঁও শহরে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, চিকিৎসা সেবা নেওয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রুহিয়ার পুরাতন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মধুপুর কালীতলা বাজার থেকে ঠাকুরগাঁওমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে অনেক গর্ত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার নাইট কোচ, হানিফ ও নাবিল পরিবহনের বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। রুহিয়া ও আশপাশের এলাকার উৎপাদিত শাকসবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্যবাহী ট্রাকও এ সড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে।
ব্যস্ততম সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এর প্রস্থ তুলনামূলক কম। এর সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পথযাত্রীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কয়েকদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। টেকসইভাবে সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে প্রশস্ত করা হলে যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
রুহিয়া কালীতলা বাজারের এক দোকানদার বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। রাস্তার খানাখন্দের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।”
ঢোলারহাট এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “সড়কটি অনেক জায়গায় সরু এবং বিভিন্ন স্থানে খুবই খারাপ। কিছুদিন আগে এ সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, রুহিয়া থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য এ সড়কের বিকল্প তেমন নেই। তাই দ্রুত খানাখন্দ মেরামত, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সড়ক প্রশস্ত করে টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ্ মোঃ আসিফ প্রতিবেদককে বলেন , “বর্ষার পানি জমে থাকার কারণে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সংস্কার করব। পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে, যাতে মানুষ ও যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারে।”

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য:

PhotoCard Icon
Create PhotoCard