কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণ অনিশ্চিত, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন নির্মাণ অনিশ্চিত, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

ফরহাদ হোসাইন,কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ অনিশ্চয়তায় পড়ে থাকায়, শয্যা সংকট, চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম অকেজো থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে কয়রা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জয়গীরমহল এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটি ২০২১ সালে ভেঙে ফেলার পর ২০২২ সালে প্রায় ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএসজেডটি এন্টারপ্রাইজ।
২০২৩ সালে ভবনের পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে।
বর্তমানে হাসপাতালের অন্য একটি ভবনের উপরের তলায় মাত্র ১৯টি শয্যা নিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অথচ এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকায় শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে মেঝেতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়।
হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসকের অভাবে প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন অকেজো থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। ল্যাব টেকনিশিয়ানের অভাবে প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কয়রা থেকে খুলনা জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা বা ঢাকায় পাঠাতে হলেও অ্যাম্বুলেন্স চালকের সংকটের কারণে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, “হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো জেলা সিভিল সার্জন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভবন নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল করে উপকূলীয় এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























মন্তব্য: