কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসিড নিক্ষেপ

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসিড নিক্ষেপ

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের সাবেক এসপি জসিম উদ্দিনের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসপি তাঁর মদদপুষ্ট এলাকার চিহ্নিত রাজাকার পুত্র আসামীদের দিয়ে নড়াইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কামরুজ্জামান মোল্ল্যার (গোলাপ মোল্ল্যা) এতিম কন্যা সন্তান সুন্দরী তানিয়ার বুকে ও পিঠে এসিড দিয়ে জ্বলসে দিয়েছে। হাসপাতালেও তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র চালায় এসপির লোকজন।

এসিড দগ্ধ তানিয়া জীবন বাঁচাতে বর্তমান পালিয়ে পালিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সে বাঁচতে চায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা চায়। জানাগেছে, নড়াইল জেলা সদরের কড়লা ইউনিয়নের বাহিরগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কামরুজ্জামান মোল্যার (গোলাপ মোল্ল্যা) এতিম কন্যা তানিয়া আক্তার একই গ্রামের অহিদুল মোল্যা, বিপ্লব মোল্যা, জুয়েল মোল্যা ও হৃদয়ের কাছে গেড়ের জমি ক্রয় ও ধানের বীজ বিক্রি বাবদ সাড়ে ১৫ লাখ টাকা পায়।

আসামীরা জমি কিংবা টাকা ফেরৎ না দেওয়ায়, তানিয়া জামান তাদের বিরুদ্ধে নড়াইল আদালতে মামলা দায়ের করে, এ বিষয় নড়াইল সদর থানার সাবেক ওসি ইলিয়াস মিয়ার শরনাপন্ন হলে ওসি তানিয়াকে পরদিন সন্ধ্যার পর একা তার সাথে দেখা করতে বলে এবং তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। তানিয়া ওসির কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে পর দিন, তৎকালীন নড়াইল পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিনের কাছে ফোন করলে, এসপি জসিম উদ্দিন তানিয়াকে সন্ধার পর একা তাঁর অফিসে আসতে বলেন।

পর দিন তানিয়া তার স্বামী, চাচাতো ভাই ও ভাবিকে নিয়ে এসপি জসিম উদ্দিনের অফিসে গেলে, এসপি জসিম উদ্দিন তানিয়ার সাথে লোকজন দেখে তাদের সাথে চড়ম দুঃব্যবহারে করে তারিয়ে দেয়। এসপি অফিস থেকে তারা চলে আসলে, এর আধা ঘন্টার পর এসপির অধীনস্থ পুলিশ তানিয়াকে ফোন করে বলেন, এসপি স্যার আপনাকে ডাকছে।

সে মোতাবেক তানিয়া আক্তার পুনরায় এসপি জসিম উদ্দিনের অফিসে ফিরে যায়। অফিসে গেলে তানিয়া আক্তারকে এসপির লোক দোতলায় নিয়ে যায়। এসপি জসিম উদ্দিনের রুমে ডোকার পর এসপি জসিম উদ্দিন তানিয়াকে বলে ওদের কাছে তুমি যে টাকা পাবে তার দ্বিগুণ টাকা দিবো বলেই, তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার কুপ্রস্তাব দেয় এবং তানিয়াকে জড়িয়ে ধরে, এ সময় তানিয়া এসপি জসিম উদ্দিনকে ধাক্কা মেরে স্বজোরে ডাক চিৎকার দিয়ে পাশের কম্পিউটার রুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

ঐ সময় এসপি জসিম সর্ট প্যান্ট ও স্যান্ডল গেঞ্জি পড়িহিত ছিলেন বলে তানিয়া জানান। তৎক্ষনাৎ তানিয়া তার স্বামীকে মোবাইল করলে, তার স্বামী দ্রুত এসে তানিয়াকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঐ সময় তানিয়া ডাক চিৎকার করে বলে ছিলেন শুয়োরের বাচ্চা তোর এ অপকর্মের কথা ডিআইজি মনিরুল ইসলাম স্যারকে জানাবো। তখন এসপি জসিম উদ্দিন তানিয়াকে এসব কারও কাছে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে ছিলেন। কারও কাছে বললে জানে মেরে ফেলবো। পরে বিষয়টি ডিআইজি মনিরুল ইসলাম সাহেবকে জানানো হয়েছে। তানিয়া আক্তার সুন্দরী, এটাই তাঁর জীবনের কাল।

বিগত ১৭ অগাস্ট এসপি জসিম উদ্দিন দারোগা আতাউরকে দিয়ে সুকৌশলে তানিয়া আক্তারকে জোরপুর্বক তদন্তের নামে বাহিরগ্রামে আসতে বাধ্য করে। রাত অনুমানিক সাড়ে ৯ টায় তানিয়া আক্তার তা বোনকে নিয়ে ঘরের বাহিরে বের হলে আসামী অহিদুল মোল্যা, বিপ্লব মোল্যা, জুলহাস মোল্যা,তুহিন মোল্যা, জুয়েল মোল্যা, হৃদয় মোল্ল্যা ও টিটো মোল্ল্যা তানিয়া আক্তার ও তার বোন ঘিরে ধরে। অহিদুল মোল্যা ধাক্কা মেরে তানিয়া আক্তারকে মাটিতে ফেলে দিলে।

অহিদুল মোল্যার হুকুমে জুলহাস মোল্যা ও বিপ্লব মোল্যা তানিয়া আক্তারের শরীর এসিড ঢেলে দেয়। তানিয়া আক্তার মৃত্যু জন্তনায় ছটফট করতে থাকলে এলাকাবাসী ছুটে আসে। এসিড নিক্ষেপকারীরা এলাকাবাসীর তারা খেয়ে পালিয়ে যায়। তানিয়ার লোকজন তার শরীরে প্রচুড় পানি ঢেলে, তাঁকে দ্রুত নড়াইল জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যায়। তানিয়ার অবস্থায় ক্রমেই অবনতি হলে, দ্রুত তাঁকে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে, ১৮ আগস্ট রাত ১টা নাগাদ তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বার্ন ইউনিটিতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেও এসপির মদদপুষ্ট আসামীরা নার্স ইনচার্জ সফুরা বেগম ও তার সহযোগী বাদশার মাধ্যমে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে।

নার্স সফুরা মুমূর্ষু তানিয়া আক্তারকে মারধর করে। তানিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্য নার্স ও রোগীদের কাছ থেকে জানতে পেরে তানিয়ার লোকজন তানিয়াকে বাঁচাতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে নিয়ে আসে। নার্স ইনচার্জ সফুরা অাসামীদের কাছে এসিড দগ্ধ তানিয়ার চিকিৎসার সব ফাইলপত্র তুলে দেয়। জীবন বাঁচাতে তানিয়া আক্তারকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসলে গোপনে জানতে পেরে এসপি জসিম উদ্দিনের নির্দেশে নড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সুকান্ত এসিড দগ্ধ তানিয়া আক্তারের কাছ থেকে সাদা কাগজে তানিয়া অাক্তার স্বাক্ষর নিতে যায়।

অসুস্থ তানিয়া সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে  অস্বীকৃতি জানালে ওসি তদন্ত সুকান্ত এসিড দগ্ধ তানিয়াকে সবার সামনে মারধর করে। এসিড দগ্ধ তানিয়াকে গত ২১/১০/২০২০ইং ঢাকা মেডিকেল কলেজের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাপত্র দিলেও করোনার কারনে তাকে সেখানে ভর্তি না নিয়ে, এসিড সারবাইব ফাউন্ডেশনে প্রেরন করে। জীবন নাশের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে মিরপুর একজন সমাজসেবীর আশ্রয় থেকে নিয়মিত এসিড সারবাইব ফাউন্ডেশনে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ রবিউল করিম খান ( পাপন) এর চিকিৎসাধীন রযেছেন। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

পুলিশের ভয়ে ও অব্যাহত হুমকির মুখে তানিয়ার বোন মিলি বেগম গত ১৮/৮/২০২০ইং তারিখ বাদী হয়ে অহিদুল মোল্যা, জুলহাস মোল্যা, বিপ্লব মোল্যা, তুহিন মোল্ল্যা, জুয়েল মোল্ল্যা, হৃদয় মোল্ল্যা, ও টিটো মোল্ল্যাকে আসামী করে নড়াইল সদর থানার এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এর ৫/৭ ধারা মোতাবেক একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

যার মামলা নং ৯ তারিখ ১৮/৮/২০২০ইং যখন থানায় মামলা দায়ের করতে যায় তখন এসিড নিক্ষেপকারী আসামীদের এসপি জসিম উদ্দিন সাথে সলাপরামর্শ করতে দেখা গেছে। নড়াইল সদর থানা পুলিশ সহজে মামলা গ্রহন করেনি। উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ মামলাটি গ্রহন করতে বাধ্য হন। এসিড দগ্ধ তানিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাথে সাক্ষাৎ করেও তিনি লম্পট পুলিশ সুপারকে ফোন করেন ও তাকে অাসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ পাওয়ার পর, এসপি জসিম উদ্দিন মন্ত্রীর নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে, মামলাটির দ্রুত ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করেন।

তানিয়া ও তার পরিবারের সদস্য বিভিন্ন ভাবে জীবন নাশের হুমকি অব্যহত রাখে। তানিয়ার পক্ষের বাদি তার বোন আদালতে না রাজি দিলে, আদালত মামলাটি তদন্ত সিআইডির উপর ন্যাস্ত করে, সি আই ডি’র ডিআইজি শেখ নাজমুল তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। পুলিশের মহা পরিদর্শক বরারব তানিয়া আবেদন করা হলে, আইজিপির নির্দেশে বিষয়টি পিবিআই তদন্ত করছে। তানিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে নড়াইল পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চট্টগ্রাম রেইঞ্জে বদলী করা হয়েছে।

তানিয়া জীবন বাঁচাতে ঢাকায় আত্বগোপনে আছেন। বিচারের আশায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইজিপির দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। উল্লেখ আসামীরা সবাই বিএনপি’র রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। অহিদুল মোল্যা ও বিপ্লব মোল্যা চিহ্নিত রাজাকারের পুত্র। তাদের প্রচুর অবৈধ টাকা পয়সা সম্পদ রয়েছে। নড়াইল জেলা সদরের কতিপয় অর্থলোভী রাজনৈতিক নেতা আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার খেয়ে এই রাজাকার পুত্র বিএনপি দলীয় মানুষ রুপি নরপিচাশদের পক্ষ অবলম্বন করছে।

বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। নড়াইলের প্রতিটি মানুষের বিষয়টি ঘৃনা চোখে দেখছে। তাদের ভয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ,মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এসিড দগ্ধ তানিয়ার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তানিয়া আক্তারের চিকিৎসায় তার প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় তাঁর পরিবার পথে বসেছে।

তানিয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসিড দগ্ধ তানিয়া আক্তারের বুক ও পিঠ সম্পুর্ন পুড়ে গেছে। সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চায়। সে দিনের পর দিন গনভবনের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য। সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার, জীবনের নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসার সহায়তা চান। তানিয়া আক্তার বর্তমানে ঢাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মানবাধিকার সংগঠক স্বাধীনতা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তাহমিনা বেগমের আশ্রয়ে মাতৃস্নেহে থেকে এসিড সারবাইব ফাউন্ডেশনের চিকিৎসাধীন।