ফুলবাড়ীতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস ও সাইবার নিরাপত্তায় অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত
মো: শাহজামাল শাওন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় যুব নেতৃত্বে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস ও সাইবার নিরাপত্তা অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস)-এর আয়োজনে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় ফুলবাড়ী উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা আকতার- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সরকারি-
বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পারিবারিক বিরোধ নিরসন নারী ও শিশু কল্যাণ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এর উদ্যোক্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, উপজেলা সাইবার কমিটির সদস্য, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও যুব প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাহমিনা শিরিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সাহানাজ পারভীন মুন্নি, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়ী সদর ৩ নম্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ হারুন, ফুলবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মিতু আহমেদ, ফুলবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদ আলম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।
ইউএসএস-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রবিউল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন সমন্বয়কারী আব্দুল কুদ্দুস সরকারের সঞ্চালনায় সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের সদস্য সীমা খাতুন।
উপস্থাপিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই কোনো না কোনো সময় অনলাইনে হয়রানি বা ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অনলাইনে সহিংসতার ঘটনায় কোথায় অভিযোগ করতে হয়—এ বিষয়ে অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই।
জরিপে আরও উঠে আসে, ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে হয়রানি, অশালীন বার্তা পাঠানো, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওর অপব্যবহার, ব্ল্যাকমেইল, হুমকি এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ ডিজিটাল সহিংসতার অন্যতম প্রধান ধরন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এসব হয়রানির শিকার হয়েছেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি অনলাইনে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সাক্ষরতা, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা চালু, সাইবার অপরাধের দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীদের আইনি ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস ও যুব নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরতে অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম ১০ দফা নাগরিক দাবি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
