দিনাজপুরের বিরামপুরে পৈত্রিক জমিতে ধানের চারা নষ্ট ও মারধরের অভিযোগ
মোঃ নয়ন মিয়া, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে রোপা আমনের ধানের চারা উপড়ে ফেলে নষ্ট করা এবং বাধা দিতে গেলে এক ব্যক্তিকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ মোহারেমুন ববি বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বিরামপুর উপজেলার বিনাইল মৌজায় অভিযোগকারীর পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। ওই জমিতে সম্প্রতি রোপা আমনের ধানের চারা রোপণ করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি,জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলে নষ্ট করেন। এতে তার আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়,জমিতে ধানের চারা নষ্ট করার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে অভিযোগকারীর পক্ষের মিনারুল ইসলামকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মোছাঃ মোহারেমুন ববি বলেন,পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে রোপা আমনের ধান চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধের জেরে ধানের চারা নষ্ট করে দেওয়ায় তাদের কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বাধা দিতে গিয়ে মিনারুল ইসলাম মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে ধানের চারা নষ্ট করা, মারধর কিংবা প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের সত্যতা কী তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হলে বিরোধের সঠিক কারণও সামনে আসবে।এদিকে, কৃষকের জমিতে ফসল নষ্টের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে,জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। ফসল নষ্ট করা কিংবা কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ,জমির মালিকানা ও দখল পরিস্থিতি এবং ধানের চারা নষ্ট ও মারধরের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে তারা কোনো ধরনের হয়রানি বা হুমকির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরদাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
