বিআইডব্লিউটিসিতে মব সৃষ্টি করে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে বদলির আদেশ পরে প্রত্যাহার

21 February 2026, 8:21:42

এইচ এম জাকির :
বিআইডব্লিউটিসিতে মব সৃষ্টি করে অবরুদ্ধ করে কর্মকর্তার বদলির আদেশ করিয়েছেন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ,পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায় বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সলিমউল্লাহকে জিম্মি করে মব সৃষ্টির মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বিআইডব্লিউটিসি অফিসার্স এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি মোঃ রুবেলুজ্জামানকে অন্যত্র বদলি করার জন্য মেইন গেটে তালা দিয়ে চেয়ারম্যানকে জিম্মি করে মব সৃষ্টি করে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বদলি আদেশ কার্যকর না করা পর্যন্ত চেয়ারম্যানকে তারা অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন। বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায় বদলি আদেশ কার্যকর করার জন্য এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটান। পরবর্তীতে ঘটনা শুনে বিআইডব্লিউটিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ও অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান কার্যালয়ে আসেন তারা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাথে মতবিনিময় করেন, মত বিনিময় চলাকালীন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ তখন অতর্কিত হামলা চালান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলেন বিআইডব্লিউটিসিতে ইতিপূর্বে অনেক চেয়ারম্যান এসেছিলেন অতীতে কোন শ্রমিক সংগঠন মব সৃষ্টি করে বদলি অথবা নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে বাধ্য করেন নাই। তারা বলেন বিআইডব্লিউটিসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আয়ের উৎস থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে থাকেন। নানাবিধ কারণে অত্র প্রতিষ্ঠানটি বিগত কয়েক বছর যাবত লোকসানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সকল অঞ্চলের মধ্যে পাটুরিয়া অঞ্চল থেকে প্রতিষ্ঠানটি কিছুটা লাভের মুখ দেখছে, পাটুরিয়া অঞ্চল থেকে লাভের জন্য অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন পাটুরিয়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী দক্ষ কর্মকর্তা মোঃ রুবেলুজ্জামান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা আরো বলেন প্রতিষ্ঠানকে পিছনের দিকে নেয়ার জন্যই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দক্ষ কর্মকর্তা রুবেলুজ্জামানকে অন্যত্র বদলির জন্য এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের কতিপয় নেতৃবৃন্দ চাঁদপুরে কর্মরত প্রকৌশলী রফিক এর সাথে চুক্তি করেন তারই আলোকে মব সৃষ্টি করে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিশেষে সারা দেশ থেকে বিআইডব্লিউটিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের জোরালো প্রতিবাদের মুখে চেয়ারম্যান পাটুরিয়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেলুজ্জামানের বদলির আদেশটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরো বলেন বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এর পর থেকে নানা ধরনের বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। গত দের বছরে কয়েকশো জাহাজের মাস্টার, ড্রাইভার, সহ অন্য অন্য পদে বদলী বানিজ্য করে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তাদের সুপারিশকৃত অবৈধ বদলি করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেই সকল কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি নাজেহাল হতে হয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়। সুত্রু মারফত আরো জানা যায় এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন বিআইডব্লিউটিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কতিপয় কর্মকর্তাগণ। তাদের ধারণা নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি রুবেলুজ্জামানকে আসন্ন অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে রুবেলুজ্জামানকে পরাজিত করতে হলে তাকে পাটুরিয়া অঞ্চল থেকে সরাতে হবে। পাটুরিয়ায় অফিসার্স
অ্যাসোসিয়েশনের অনেক ভোট রয়েছে। এ সকল কারণে রুবেলুজ্জামানকে বদলির জন্য এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের কতিপয় নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা কর্মচারীদের সূত্র থেকে জানা যায়। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায় এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের প্রভাবশালী এক নেতার কর্মস্থল শরিয়তপুর হলেও তিনি তাঁর কর্মস্থলে না গিয়ে বিআইডব্লিউটিসিতে বদলী বানিজ্য, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা মনে করেন একের পর এক নানাবিধ কারণে বিআইডব্লিউটিসির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে, প্রতিষ্ঠানকে একটি সুশৃংখল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে চেইন অব কমান্ড ঠিক করে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে হবে,তার জন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।