ছোট পদে শুরু, বড় স্বপ্নে জয়—অদম্য পরিশ্রমে সাফল্যের জয়গাথা
মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ:
মাত্র ৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু। দীর্ঘ অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং শেখার অদম্য আগ্রহকে পুঁজি করে সেই মানুষটিই আজ একটি প্রতিষ্ঠানের Chief Operating Officer (COO)। রাকিব খানের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত পদোন্নতির গল্প নয়; বরং তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার বার্তা—কোনো কাজই ছোট নয়, যদি লক্ষ্য থাকে বড়।
২০১০-১১ সালে গার্মেন্টস শিল্পে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন রাকিব খান। স্বল্প বেতন কিংবা ছোট পদ তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং প্রতিটি দায়িত্বকে তিনি শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ধাপে ধাপে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি স্টোর কিপার, লাইন QC, QA, কোয়ালিটি সুপারভাইজার, বায়িং হাউস QC, মার্চেন্ডাইজার, মার্চেন্ট ম্যানেজার, ফ্যাক্টরি মার্চেন্ডাইজার, সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার এবং GM–Merchandising হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের Chief Operating Officer (COO) পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
তবে তাঁর এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কাজের চাপ, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা, চাকরি পরিবর্তন এবং নতুন পরিবেশে নিজেকে বারবার প্রমাণ করার কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও তিনি কখনো শেখার আগ্রহ কিংবা পরিশ্রমের মানসিকতা থেকে সরে আসেননি।
রাকিব খান বলেন, “সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। প্রতিটি অর্জনের পেছনে থাকে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য, সততা এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত।”
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি আজ কোথায় আছেন, সেটি আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। প্রতিদিন নিজেকে কতটা দক্ষ করে তুলছেন, সেটিই আপনার আগামীকে গড়ে তোলে। কোনো কাজই ছোট নয়। ছোট পদে কাজ করতে কখনো লজ্জা পাবেন না। আপনার পদবি নয়, আপনার দক্ষতা ও কাজই একদিন আপনার পরিচয় হয়ে উঠবে।”
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সততা, ন্যায়, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পালন করাই হবে তাঁর প্রধান অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, “আজ যারা ৪ হাজার, ৮ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা বেতনে কর্মজীবন শুরু করছেন, তারা কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করবেন না। কারণ আমিও একদিন আপনাদের মতোই একটি ছোট পদ থেকেই আমার যাত্রা শুরু করেছিলাম।”
রাকিব খানের স্কুলজীবনের বন্ধু মো. সুলেমান মিয়া বলেন, “রাকিবের সাফল্য আমাদের এলাকার তরুণদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, কর্মজীবনের শুরুটা যত ছোটই হোক, নিষ্ঠা, সততা ও নিরন্তর শেখার মানসিকতা থাকলে একদিন বড় দায়িত্বে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর এই অর্জন আমাদেরও গর্বিত করেছে।”
বাল্যবন্ধু মিঠুন দাস বলেন, “ছোটবেলা থেকেই রাকিব খুব পরিশ্রমী ও লক্ষ্যভেদী ছিল। কোনো কাজকে সে কখনো ছোট করে দেখেনি। আজকের এই সাফল্য তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বাভাবিক ফল।”
আরেক বাল্যবন্ধু দোলন দত্ত বলেন, “অনেকেই চাকরির শুরুতে ছোট পদ বা কম বেতন দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু রাকিব ধাপে ধাপে নিজেকে গড়ে তুলেছে। তার জীবন তরুণদের শেখায়—কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।”
রাকিব খানের বাবা-মা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই রাকিবের শেখার আগ্রহ ছিল প্রবল। নতুন কিছু জানার জন্য সে সব সময় চেষ্টা করত। আজ COO হওয়ার পেছনে সেই আগ্রহ, পরিশ্রম এবং সততাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
রাকিব খানের এই পথচলা প্রমাণ করে, মানুষের পরিচয় তার প্রথম চাকরি বা প্রাথমিক বেতন নয়; বরং অধ্যবসায়, সততা, দক্ষতা এবং নিরন্তর আত্মোন্নয়নের মধ্য দিয়েই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়। তাই তাঁর গল্প আজ অসংখ্য তরুণের কাছে স্বপ্ন দেখার সাহস, পরিশ্রমের প্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
