এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে গৃহবধূর আংটি–নাকফুল নেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ ৯ নভেম্বর রবিবার ২০২৫।
বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কর্মীদের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূর হাতের আংটি, নাকফুল ও পিতলের বদনা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীর নাম শ্রাবণী হীরা (২২)। তিনি ড্যাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (DFED)-এর চিতলমারী শাখা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সুদসহ মোট ৪৫ হাজার ১২০ টাকা পরিশোধের শর্ত ছিল। কিছু কিস্তি বাকি থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সম্প্রতি তার কাছ থেকে গয়না ও গৃহস্থালি সামগ্রী নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
শ্রাবণী হীরা জানান, গত ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে এনজিওর কয়েকজন মাঠকর্মী তাকে ডেকে অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ও তিন বছর বয়সী মেয়েকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে বিকেলে অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে জোরপূর্বক হাতের সোনার আংটি, নাকফুল ও একটি পিতলের বদনা নিয়ে যান। ঘটনাটি ভিডিও করে রাখেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাকে ঘরে তালা দিয়ে ভয় দেখানো হয়। আমার ছোট মেয়ে ক্ষুধায় কাঁদছিল, কিন্তু কিছু বলার সাহস পাইনি।”
এ ঘটনার পর শনিবার (৮ নভেম্বর) গৃহবধূর অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, ডিএফইডি চিতলমারী শাখার ব্যবস্থাপক বাসুদেব দেবনাথ বলেন, “শ্রাবণীর কিস্তি বাকি ছিল। নাকফুল নেওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অর্থনৈতিক চাপে থাকা দরিদ্র নারীকে এমনভাবে অপমান ও নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এনজিও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
