ডিমলায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজের ঘটনায় ভিডিও ভাইরাল

7 July 2026, 10:52:11

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান উপেক্ষা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ, এমনকি শরীর ও মাথায় ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পৃথক দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের নজরদারির অভাব ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘুরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিশকাত মৌকে দিয়ে শরীরে ম্যাসাজ করান। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অসুস্থতার কথা বলে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, গত ২৫ জুন উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়েও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সনাতন ধর্মীয় শিক্ষিকা তিলোত্তমা রানী রায় (কাব্যতীর্থ) নিয়মিত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ও মাথায় ম্যাসাজ করিয়ে নেন। তিনি অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কি নাম মল্লিকাকে দিয়ে শরীর মেসেজ করিয়ে নিচ্ছেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মারুফা বেগম লিজা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলার অনেক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাই নিজেদের সন্তানদের বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে পড়াচ্ছেন। অথচ সরকারি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, এ প্রবণতা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতারও প্রতিফলন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান বলেন, চারঘুরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়া খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে গত ৬ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং একই দিনে ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরকে আহ্বায়ক এবং একাডেমিক সুপারভাইজার আমির হামজা বোরহান উদ্দিন ও ব্যানবেইস কর্মকর্তা শাহানুর আলমকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকের ব্যক্তিগত সেবা করানো শুধু নৈতিকতা ও পেশাগত আচরণবিধির পরিপন্থী নয়, এটি শিশুর মর্যাদা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশেরও পরিপন্থী। তাই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।