মাদ্রাসার শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও মারপিটের ঘটনায় মোরেলগঞ্জে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন বিক্ষোভ ও মানববন্ধন, প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ পদে থাকার পায়তারা

5 July 2026, 9:34:56

মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে গুলিশাখালী ফজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি কর্তৃক ওই মাদ্রাসার ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে লাঞ্ছিত ও মারপিটের ঘটনায় রবিবার সকালে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

রবিবার বেলা ১১টায় মাদ্রাসার মূল ফটকের সামনের সড়কে পরীক্ষা বর্জন করে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক অবিভাবক ও ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধন থেকে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গুলিশাখালী ফজিল (¯œাতক) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি গত ২৯ জুন তার চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও গায়ের জোরে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানে পুনরায় চুক্তি ভিত্তিক অধ্যক্ষ পদে থাকার পায়তারা করছেন। তিনি মাদ্রাসায় দায়িত্বে থাকাকালীন শিক্ষকদের সাথে দুর ব্যবহার কোন কারন অকারনে শোকজ করে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় সহ নানাবিধ অনিয়ম করায় প্রতিবাদে শিক্ষকরা দাবি তোলেন। তার মেয়াদ শেষ তিনি সাথে বিদায় অবসর গ্রহন করবেন। তা না করে নতুন করে কৌশল করে ম্যানেজিং কমিটির সুপারিশ নিয়ে চুক্তি ভিত্তিক মাদ্রাসায় ২ বছরের জন্য পুনরায় থাকার প্রস্তাবনা পাঠায় মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত বুধবার মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলিরা প্রতিবাদ সভা করে তাকে মাদ্রাসায় পুনারয় অধ্যক্ষ পদে বহাল না রাখার জন্য দাবি জানান। তারই জের স্বরুপ শনিবার সকালে গুলিশাখালী বাজারে মাদ্রাসার ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি মারপিট ও লাঞ্ছিত করে। অপর শিক্ষকবৃন্দরাও আতংকে রয়েছেন বলে জানাগেছে।

এ ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়ে রবিবার বেলা ১১ টায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ৩য় দিনের পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদে ফেটেপড়েন মাদ্রাসার সামনে তারা ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার উপ-অধ্যাক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক মাওলানা মজিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক্ষ মোঃ শাহ আলম, সহকারী শিক্ষক আল মামুন, এবতেদায়ী শিক্ষক নাজমিন আক্তার, কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগম, শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গপ্ফার, শিক্ষার্থী নবীন, রোমেনা আক্তার, আব্দুল্লাহ, শাহিদা আক্তার, মোরশেদা, অভিভাবক আব্দুল আউয়াল তালুকদার, দেলোয়ার গাজী, হাফিজা বেগম সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। সভায় বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষককে মারপিটের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষা দিবে না। প্রয়োজনে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একই সাথে মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি কে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক অনুমোদনের বাতিলেরও দাবি জানান উদ্ধর্তন প্রশাসনের প্রতি।

এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, গুলিশাখালী ফাজিল (ডিগ্রী ) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে দন্দের পরিস্থিতির আলোকে সহকারী অধ্যক্ষের সাথে কথা বলেছি কোনভাবেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন না করে সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষককে মারপিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন শৃংঙ্খলা অবনতি না হয় সে বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরকেও অবহিত করা হয়েছে।

বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।

এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।