আগামী ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর ২২তম জাতীয় কাউন্সিল
দেওয়ান মাসুকুর রহমান, ০৪ জুলাই ২০২৬ :
“মেহনতী জনতার সাথে একাত্ম হও।”— এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর ২২তম জাতীয় কাউন্সিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এইজন্য সাংগঠনিক তৎপরতা ও কার্যক্রমকে সুচারুভাবে পরিচালনায় সংগঠনের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি অতুলন দাস আলোর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানভীন আহমেদের সঞ্চালনায় সম্প্রতি সম্পাদক মণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্পাদক মণ্ডলীর সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি অতুলন দাস আলোকে আহ্বায়ক, ইয়াতুননেসা রুমাকে সদস্য সচিব করে ২২তম জাতীয় কাউন্সিল সফল করার লক্ষ্যে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কাউন্সিল প্রস্ততি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আগামী ৩১ জুলাই কাউন্সিল সম্পন্ন করতে যাবতীয় কার্যপরিচালনা করবে। সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল সাংগঠনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, কলেজ, উপজেলা, স্কুল, ইউনিয়ন ও ওয়াডের্র কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। এবং সকল জেলা শাখার সাংগঠনিক রিপোর্ট লিখিত আকারে ই-মেইল বা ডাকের মাধ্যমে কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর ২২তম জাতীয় কাউন্সিল সফল করার জন্য আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, খাদ্য-কর্মসংস্থান এবং কৃষি ও গ্রামীণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে; গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; শিক্ষাখাতে ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ অথবা জাতীয় বাজেটের ২৫% বরাদ্দ দিতে হবে, উন্নয়ন বাজেটে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে; মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শিল্পোদ্যোক্তাদের পরিকল্পিতভাবে প্রণোদনা দিতে হবে; বেকারদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার এবং আত্মকর্মসংস্থানে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে; নিম্নআয়ের আড়াই কোটি পরিবারের জন্য আগামী ছয় মাস প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদানে বরাদ্দ থাকতে হবে।”— এইসব দাবী নিয়ে ছাত্র মৈত্রীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করার জন্য আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মেহনতী জনতার সাথে একাত্ম হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সমাজ বিপ্লবের সহযোগী শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী’র কর্মীরা গড়ে তুলেছেন নিজেদেরকে। জনমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করতে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী নিরলসভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের গৌরবদীপ্ত ইতিহাস শিক্ষা একটি সার্বজনীন বিষয়। যা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। ব্যক্তির পরিপূর্ণ বিকাশ এবং সচেতন করার ক্ষেত্রে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
শিক্ষা মানুষকে তার সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করে। ফলে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকল মানুষের শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়েই এ দেশের ছাত্র সমাজ। আমাদের সমাজে যেমন এক দিকে রয়েছে মুষ্টিমেয় ধনীক শ্রেণী। অপর দিকে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হচ্ছে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং গরীব শ্রেণী।
বিডি-প্রেস 24 ডটকম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, তথ্য ইত্যাদির অননুমোদিত ব্যবহার কপিরাইট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
এই আইন লঙ্ঘনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
